আইফোন কারখানা পরিচালনা করে ফক্সকন নামের একটি কোম্পানি। গত মাসে ঝেংজুতে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে ফক্সকন কারখানা বন্ধ করে দেয়। এতে অনেক শ্রমিক চাকরি ছেড়ে বাড়িতে চলে যান। তখন কারখানা কর্তৃপক্ষ আকর্ষণীয় বোনাসে নতুন শ্রমিক নিয়োগ দেয়। খবর বিবিসির।

ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা ‘আমাদের অধিকার রক্ষা করতে হবে’—এ ধরনের নানা স্লোগান দিচ্ছেন। আবার অনেক শ্রমিককে দেখা যায়, নজরদারির জন্য যেসব সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছিল, সেগুলো ভাঙছেন।

অন্যান্য ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, শ্রমিকেরা খাবারের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করার পাশাপাশি বলছেন, তাঁদের প্রতিশ্রুত বোনাস দেওয়া হয়নি। শ্রমিকদের অভিযোগ, কারখানা কর্তৃপক্ষ চুক্তি পরিবর্তন করে প্রতিশ্রুত বোনাস থেকে কর্মীদের বঞ্চিত করছে। তাঁদের আরও অভিযোগ, কারখানা কর্তৃপক্ষ তাঁদের নির্জনাবাসে রাখছে, কিন্তু ঠিকমতো খাবার দিচ্ছে না। সে জন্য শ্রমিকদের সংকল্প, কারখানা কর্তৃপক্ষ তাঁদের চাওয়া পূরণ না করলে তাঁরা লড়াই চালিয়ে যাবেন। এ ছাড়া শ্রমিকদের অভিযোগ, পুলিশ এক কর্মীকে এত মেরেছে যে তাঁর বাঁচার সম্ভাবনা খুবই কম।

এ ছাড়া কারখানার নতুন কর্মীদের অভিযোগ, পুরোনো যে কর্মীরা করোনার আগের প্রকোপের সময় কারখানায় ছিলেন, তাঁদের দ্বারা নতুন কর্মীরা আক্রান্ত হতে পারেন।
তবে ফক্সকন কর্তৃপক্ষ শ্রমিক বিক্ষোভ নিয়ে মুখ খোলেনি। তাইওয়ানের কোম্পানি ফক্সকন আইফোনের প্রধান ঠিকাদার। আর তাদের ঝেংজু কারখানা বিশ্বের বৃহত্তম আইফোন কারখানা।

বিবিসির সংবাদে বলা হয়েছে, অক্টোবরের শেষ দিকে ক্রমবর্ধমান করোনা সংক্রমণের কারণে ভীত হয়ে এ কারখানার অনেক কর্মী পালিয়ে যান। ফক্সকন কর্তৃপক্ষ তখন শ্রমিকদের থেকে যাওয়ার বিষয়ে প্রভাবিত করে এবং আকর্ষণীয় বোনাসের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নতুন কর্মী নিয়োগ দেয়। কিন্তু এরপর ঝেংজু শহর থেকে কারখানাকে বিচ্ছিন্ন রাখতে কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

এসব কারণে সামগ্রিকভাবে আইফোন উৎপাদন কমে গেছে। এ মাসের শুরুতে আইফোন জানায়, ঝেংজুতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কারণে বাজারে আইফোন ১৪ মডেলের সংকট হতে পারে।