হাটের ব্যবসায়ী ও কৃষকেরা জানান, ব্রিটিশ আমল থেকেই প্রতি বুধবার হাট বসে। সে সময় পাশেই ছোটখাটো নদীবন্দর ছিল। মানিকগঞ্জ ছাড়াও ফরিদপুর, রাজবাড়ী, টাঙ্গাইল, ঢাকা, পাবনাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বড় বড় নৌকায় করে পাট নিয়ে আসতেন কৃষক ও খুচরা ব্যবসায়ীরা।

ঘিওরের পাটের হাটের ইজারাদার পাঁচজন। তাঁদের একজন মো. মিজানুর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে জানান, জেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে কৃষকেরা বিক্রির জন্য পাট নিয়ে হাটে আসেন। এ অঞ্চলে মূলত তোষা সাদা জাতের পাটের আবাদ বেশি হয়। গত হাটে ৮০ টনের মতো পাট বেচাকেনা হয়। মানভেদে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

হাটে বড় পাইকারি ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছেন মো. আলাউদ্দিন, গৌরাঙ্গচন্দ্র বিশ্বাস, গোকুলচন্দ্র বিশ্বাসসহ আরও কয়েকজন। তাঁদের মধ্যে গোকুলচন্দ্র বিশ্বাস ২০ বছরের বেশি সময় ধরে এই হাটে পাট কেনাবেচা করছেন। তিনি বলেন, হাটে খুচরা ব্যবসায়ী ও কৃষকদের কাছ থেকে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৪০০ টাকা মণ দরে ৩০০ মণ পাট কিনেছেন। এসব পাট নারায়ণগঞ্জে পাঠাবেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মানিকগঞ্জে গত বছরের তুলনায় ২৩৮ হেক্টর বেশি জমিতে জেলায় পাটের আবাদ হয়েছে। এ বছর কৃষকেরা ৩ হাজার ৯৭৩ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করেন। উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৯ হাজার ২১৭ মেট্রিক টন।

হাটে পাট বিক্রি করতে আসা কৃষকেরা জানান, পাট চাষের ক্ষেত্রে এখন বড় সমস্যা হচ্ছে পানির অভাব। এবার বৃষ্টি কম হওয়ায় ও বর্ষার পানি না থাকায় পাট পচাতে তাঁরা সমস্যায় পড়েছেন।

ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হামিদুর রহমান বলেন, দেশের অন্যতম বৃহৎ ঘিওর পাটের হাটের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সেই ব্রিটিশ আমল থেকেই। এই হাটের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। নদীভাঙন রোধ ও হাটের অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় আড়াই কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু হবে।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন