গতকাল ঢাকার বাজারে খোলা চিনি ৯০ টাকার আশপাশে ও প্যাকেটজাত চিনি ৯৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। চিনির দাম কয়েক মাস ধরে বাড়তি। এর মধ্যে বাংলাদেশ সুগার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে চিনির দাম বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক একটি প্রস্তাবও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়েছিল। ডলারের বিপরীতে টাকার ব্যাপক অবমূল্যায়নের বিষয়টি সামনে এনে ওই প্রস্তাব করা হয়।

এদিকে নতুন এ দাম বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে। সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের পাশাপাশি এসব পণ্যের মিলগেটের মূল্য ও পরিবেশক মূল্যও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তবে বড় কোম্পানিগুলো বলছে, চিনির দাম বেঁধে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সরকার তাদের সঙ্গে আলোচনা করেনি।

এ বিষয়ে সিটি গ্রুপের পরিচালক (করপোরেট ও রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স) বিশ্বজিৎ সাহা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই চিনির দাম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমরা যে ১০৮ থেকে ১১০ টাকায় ডলার কিনে পণ্য আমদানি করছি, সেটা বিবেচনায় আনা হয়নি।’

এর আগে গত ৩০ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল চাল, আটা, ময়দা, ভোজ্যতেল, চিনি, মসুর ডাল, সিমেন্ট, রডসহ মোট ৯ পণ্যের দাম নির্ধারণ করে দেবে সরকার। এসব পণ্যের যৌক্তিক দাম কত হওয়া উচিত, তা ঠিক করতে ইতিমধ্যে কয়েকটি বৈঠকও হয়েছে।

এদিকে গতকাল ঢাকার পলাশী বাজার, নিউমার্কেট কাঁচা বাজার ও কাঁঠালবাগান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আমদানি ও সরকারি বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে বাজারে চালের দাম কমিয়ে আনার চেষ্টা থাকলেও, দাম এখনো কমছে না। খুচরা বাজারে মোটা চালের কেজি এখনো ৫০ টাকার ওপরে। কোথাও কোথাও ৫৫ টাকার আশপাশেও বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি মানের বিআর-২৮ চাল খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকার আশপাশে।

এ ছাড়া মিনিকেট চালের কেজি ৭০ টাকার ওপরে ও নাজিরশাইল চাল ৮৫ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে আটার দাম আবার বাড়তি। খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকার আশপাশে। খোলা ময়দার দাম ৬০ টাকার ওপরে।

নিউমার্কেট কাঁচা বাজারের আমাতুন নুর রাইস এজেন্সির বিক্রেতা মামুন হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘চাল আমদানির কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু কিনতে গেলে আমদানির চাল পাচ্ছি না।’

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন