ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে

সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের জন্য মুক্ত আলোচনা: ডিজিটাল অর্থনীতি ও উদ্যোক্তা প্রসঙ্গ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে।ছবি: প্রথম আলো

দেশে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে তা দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। এ ছাড়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়বে। তবে এটি নতুন ধরনের বৈষম্যও তৈরি করছে, কমছে প্রথাগত অনেক কর্মসংস্থান।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক মুক্ত আলোচনায় বক্তারা এ কথা বলেন। ‘গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের জন্য মুক্ত আলোচনা: ডিজিটাল অর্থনীতি ও উদ্যোক্তা প্রসঙ্গ’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে ডিজিটাল অর্থনীতি দ্রুত বিকাশমান হলেও এই খাতে এখনো নীতিগত অস্পষ্টতা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, উচ্চ ব্যান্ডউইডথ ব্যয়, ডিজিটাল বৈষম্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে জবাবদিহির অভাবসহ নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

সিজিএসের প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবদুল মজিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম জাহিদ, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের স্কুল অব বিজনেসের ডিন এম এ বাকী খলীলী।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান সবুর খান, রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বারভিডার সাবেক সভাপতি আবদুল হক, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রির (বিসিআই) সাবেক সভাপতি শাহেদুল ইসলাম, ঢাকা চেম্বারের (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি। এ ছাড়া সিটি ব্যাংকের অ্যাসোসিয়েট রিলেশনশিপ ম্যানেজার তানহা কেট, উদ্যোক্তা আবিদা সুলতানা ও তাজমিন নাসরিন এবং সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ডিজিটাল মাধ্যম একদিকে বড় সুযোগ সৃষ্টি করেছে। আবার অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটাও সত্য যে এটি নতুন ধরনের বৈষম্য তৈরি করছে। একদিকে কর্মসংস্থানের সুযোগ বেড়েছে, অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ফলে প্রথাগত অনেক কর্মসংস্থান সংকুচিত হচ্ছে।
ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহারের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করার বিষয়ে সবাইকে যার যার জায়গা থেকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো, ব্যবসা সহজীকরণ, ব্যবসার খরচ কমানো ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করতে চাইলে ডিজিটালাইজেশনের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে মানুষের মাঝে ডিজিটাল দক্ষতা ও শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে হবে।

মেটাকে চিঠি দেওয়া সঠিক পদক্ষেপ
অনুষ্ঠানে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বড় ধরনের নৈরাজ্যমূলক বিশৃঙ্খলা ও বিভাজন সৃষ্টিকারী একটি উপাদান হতে পারে। ইতিমধ্যে সে লক্ষণ দেখা গেছে। নারীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ভুয়া তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এসব নিয়ন্ত্রণে সরকার বা নির্বাচন কমিশনের কার্যকর ভূমিকা বা উদ্যোগ আমরা দেখছি না।’

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নৈরাজ্যমূলক কাজের বিষয়ে গত ডিসেম্বরে সরকারের পক্ষ থেকে মেটাকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। আমি মনে করি, এটি একটি সঠিক পদক্ষেপ। তবে মেটার বাংলাদেশে অফিস নেই, ভাষাগত সীমাবদ্ধতাও আছে। তবু রাজনৈতিক সহিংসতা, বিদ্বেষ ও ঘৃণা নিয়ন্ত্রণে এ বিষয়ে আরও জোরদার পদক্ষেপ প্রয়োজন।