আইপিওতে প্লেসমেন্ট ব্যবস্থা চালু নিয়ে শেয়ারবাজারে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, নতুন এ বিধান শেয়ারবাজারে আবারও প্লেসমেন্ট বাণিজ্যকে উৎসাহিত করবে। এতে দুর্নীতি ও অনিয়মের ঘটনা বেড়ে যেতে পারে। আর নিয়ন্ত্রক সংস্থা মনে করছে, এ ধরনের সুবিধার কারণে কোম্পানির মালিকেরা শেয়ারবাজারে আসতে উৎসাহিত হবেন।

সংশোধিত বিধিতে নতুন ধারা হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে আইপিওতে প্লেসমেন্টের ব্যবস্থাটি। সেখানে বলা হয়েছে, এখন থেকে শেয়ারবাজারে আসা যেকোনো কোম্পানি তার আইপিও শেয়ারের সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ ওই কোম্পানির কর্মী বা কোম্পানির পছন্দের যেকোনো ব্যক্তির কাছে বিক্রি করতে পারবেন। যদি ওই কোম্পানি স্থিরমূল্য বা ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে শেয়ারবাজারে আসে, তাহলে প্লেসমেন্টের এসব শেয়ার বিক্রি করতে হবে ফেসভ্যালুতে। আর বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আসা কোম্পানি আইপিও প্লেসমেন্টের শেয়ার বিক্রি করতে পারবে বিএসইসি নির্ধারিত যৌক্তিক মূল্যের হিসাবে।

কোনো কোম্পানির আইপিও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির সম্মতি পাওয়ার পরই আইপিও প্লেসমেন্টের শেয়ার বিক্রি করা যাবে। ধরা যাক, কোনো কোম্পানি আইপিওর মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। নতুন বিধানের ফলে এখন থেকে ওই কোম্পানি ১৫ কোটি টাকার বা ১৫ শতাংশ শেয়ার তার কর্মী বা পছন্দের ব্যক্তির কাছে বিক্রি করতে পারবে।

এদিকে আইপিওতে প্লেসমেন্ট ব্যবস্থা চালু নিয়ে শেয়ারবাজারে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, নতুন এ বিধান শেয়ারবাজারে আবারও প্লেসমেন্ট বাণিজ্যকে উৎসাহিত করবে। এতে দুর্নীতি ও অনিয়মের ঘটনা বেড়ে যেতে পারে। নানা ধরনের চাপের মুখে পড়তে হতে পারে কোম্পানিগুলোকে। আর নিয়ন্ত্রক সংস্থা মনে করছে, এ ধরনের সুবিধার কারণে কোম্পানির মালিকেরা শেয়ারবাজারে আসতে উৎসাহিত হবেন। পাশাপাশি কোম্পানির কর্মীদের শেয়ার বরাদ্দ দিলে তাতে কর্মীরাও উপকৃত হবেন। শেয়ারবাজারে নতুন নতুন কোম্পানি আনতে প্রণোদনা বা ইনসেনটিভ হিসেবে এ ব্যবস্থা চালু করেছে বিএসইসি।

২০১০ সালের শেয়ারবাজার ধসের আগে প্রাক্‌–আইপিও প্লেসমেন্টের রমরমা বাণিজ্য শুরু হয়েছিল। শত শত কোম্পানি রাতারাতি প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রিতে নেমে পড়ে। বিনিয়োগকারীরাও বাছবিচার ছাড়া বেশি লাভের আশায় সেসব শেয়ারে বিনিয়োগ করেছেন। এখনো অনেক বিনিয়োগকারী অনেক কোম্পানির প্লেসমেন্ট শেয়ারে বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত পাননি। তবে এবার নতুন বিধিতে আইপিওর অনুমোদনের পর প্লেসমেন্টের ব্যবস্থা থাকায় টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে উৎকণ্ঠা হয়তো কমবে। কিন্তু এ প্লেসমেন্টের শেয়ার পেতে কোম্পানির ওপর নানা ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। তাতে কোম্পানিগুলো শেয়ারবাজারে আসতে নিরুৎসাহিত হতে পারে। আবার আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্লেসমেন্ট অনৈতিক কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।

২০১০ সালের শেয়ারবাজার ধসের জন্য প্লেসমেন্ট অরাজকতাকে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এ–সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে। এরপর ২০১১ সালে বিএসইসি পুনর্গঠনের পর প্লেসমেন্ট বাণিজ্যকে সীমিত করা হয়।

২০১০ সালের শেয়ারবাজার ধসের জন্য প্লেসমেন্ট অরাজকতাকে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এ–সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে। এরপর ২০১১ সালে বিএসইসি পুনর্গঠনের পর প্লেসমেন্ট বাণিজ্যকে সীমিত করা হয়। আইপিওতে আসার আগে সর্বোচ্চ ১০০ ব্যক্তির কাছে প্লেসমেন্টে শেয়ার বিক্রির বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়। পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর নামে প্লেসমেন্টে শেয়ার বিক্রি করা হতো। এ জন্য বিএসইসির অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল। তারপরও প্লেসমেন্টকে কেন্দ্র করে নানা অনিয়ম চলতে থাকে। এ অবস্থায় ২০১৯ সালে এসে কোম্পানির মূলধন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিএসইসির অনুমোদনের বাধ্যবাধকতাটি তুলে নেওয়া হয়। যার কারণে এখন কোনো কোম্পানি মূলধন বাড়াতে প্লেসমেন্টে শেয়ার বিক্রি করলে তার জন্য বিএসইসির অনুমোদন নিতে হয় না।

২০২০ সালে এসে বিএসইসি নতুন করে আবার পুনর্গঠন হয়। নতুন কমিশন এসে প্লেসমেন্ট আবার ফিরিয়ে এনেছে নতুন রূপে। এখন দেখার পালা নতুন এ ব্যবস্থা শেয়ারবাজারের জন্য সুনাম বয়ে আনে নাকি অতীতের মতো দুর্নাম? উত্তর পেতে সময়ের অপেক্ষায় থাকতে হবে।

শেয়ারবাজার থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন