বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জানতে চাইলে বিএসইসির কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, বাজারের অন্যান্য কোম্পানির সঙ্গে সামঞ্জস্য ও সমতা বিধান করতে এবং সবার সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে কোম্পানিগুলোর লেনদেনযোগ্য শেয়ারের পরিমাণ বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বাজারে যাতে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে জন্য প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ শেয়ার ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, নতুন করে বাজারে শেয়ার ছাড়ার জন্য কোম্পানিগুলোকে এক বছর সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কোনো কোম্পানি মাসে ১ শতাংশের বেশি শেয়ার ছাড়তে পারবে না। মাস শেষে শেয়ার ছাড়ার অগ্রগতির বিষয়ে বিএসইসিকে অবহিত করতে হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে শেয়ারবাজারে ওয়ালটনের লেনদেনযোগ্য শেয়ার রয়েছে মাত্র ১ শতাংশ। বাকি ৯৯ শতাংশ শেয়ার কোম্পানিটির উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে রয়েছে। বিএসইসির নতুন নির্দেশনার ফলে ওয়ালটনের উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে থাকা শেয়ার থেকে ৯ শতাংশ শেয়ার নতুন করে বাজারে ছাড়তে হবে।

বর্তমানে শেয়ারবাজারে বহুজাতিক কোম্পানি বার্জার পেইন্টসের লেনদেনযোগ্য শেয়ার রয়েছে ৫ শতাংশ। বাকি ৯৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে। কোম্পানিটিকে এখন নতুন করে আরও ৫ শতাংশ শেয়ার বাজারে ছাড়তে হবে।

সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি আইসিবির বাজারে লেনদেনযোগ্য শেয়ার রয়েছে ৩ দশমিক ১৯ শতাংশ। বাকি শেয়ারের মধ্যে ২৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সরকারের হাতে। ২২ দশমিক ৭২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংকের হাতে। ২৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সরকারি মালিকানাধীন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হাতে। ১২ দশমিক ৩৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সরকারি বিমা কোম্পানিগুলোর হাতে। আর বিরাষ্ট্রীয়করণ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতে রয়েছে ৯ দশমিক ১০ শতাংশ শেয়ার। কোম্পানিকে এখন নতুন করে প্রায় ৭ শতাংশ শেয়ার বাজারে ছাড়তে হবে।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, গত আগস্টে পাবলিক ইস্যু রুলস, ২০১৫ সংশোধন করে নতুন গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, যেসব কোম্পানির আইপিও (প্রাথমিক গণপ্রস্তাব) পরবর্তী পরিশোধিত মূলধন ১৫০ কোটি টাকার বেশি, শেয়ারবাজারে সেসব কোম্পানির ন্যূনতম ১০ শতাংশ লেনদেনযোগ্য শেয়ার থাকতে হবে। পাবলিক ইস্যু রুলসের ওই সংশোধনীর পর আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণে কোম্পানি তিনটিকে বাজারে শেয়ারসংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিএসইসি সূত্রে আরও জানা গেছে, কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নতুন করে শেয়ার ছাড়ার নির্দেশনার বিষয়ে জানতে উল্লেখিত তিন কোম্পানির মধ্যে দুটি কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু কেউ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

শেয়ারবাজার থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন