default-image

শেয়ারবাজারের ৬৬টি কোম্পানির শেয়ারের সর্বনিম্ন মূল্যস্তর বা ফ্লোর প্রাইস আজ বৃহস্পতিবার থেকে উঠে যাচ্ছে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গতকাল বুধবার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিএসইসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শেয়ারবাজারে অস্বাভাবিক পতন ঠেকাতে গত বছরের ১৯ মার্চ সব কোম্পানির শেয়ারের ওপর সর্বনিম্ন মূল্যস্তর আরোপ করা হয়, যাতে ওই শেয়ার সেই দামের নিচে নামতে না পারে। এ মূল্যস্তর বেঁধে দিয়েই মূলত গত বছরের সূচকের অস্বাভাবিক ও একটানা পতন থামানো হয়েছিল। মূল্যস্তর আরোপের আগে ১৮ মার্চ প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচকটি নেমে এসেছিল ৩ হাজার ৬০০ পয়েন্টে। সেখান থেকে পরে তা বাড়তে থাকে।

বিএসইসি যে ৬৬টি কোম্পানির শেয়ারের সর্বনিম্ন মূল্যস্তর তুলে নিয়েছে, সেগুলো হলো পিপলস লিজিং, আরএন স্পিনিং, বাংলাদেশ সার্ভিসেস, আইএফআইএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড-১, জাহিন স্পিনিং, রিংসাইন টেক্সটাইল, অলিম্পিক একসেসরিজ, ডিবিএইচ ফাস্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ফনিক্স ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, নুরানী ডায়িং, রিজেন্ট টেক্সটাইল, এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ড, ইভিন্স টেক্সটাইল, প্যাসিফিক ডেনিমস, মেট্রো স্পিনিং, কাট্টলি টেক্সটাইল, ফার কেমিক্যাল, দেশবন্ধু পলিমার, ইয়াকিন পলিমার, সাফকো স্পিনিং, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড, সেন্ট্রাল ফার্মা, বিচ হ্যাচারি, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, হামিদ ফেব্রিকস, প্রাইম টেক্সটাইল, সায়হাম কটন, বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস, গোল্ডেন হারভেস্ট, এএফসি অ্যাগ্রো, বেঙ্গল উইন্ডসোর, খুলনা প্রিন্টিং, সিলভা ফার্মা, ইন্দো-বাংলা ফার্মা, আরগন ডেনিমস, কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ, শাশা ডেনিমস, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ, এস্‌কোয়ার নিট কম্পোজিট, ভিএফএস থ্রেড, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, ফনিক্স ফাইন্যান্স, এডভেন্ট ফার্মা, রতনপুর স্টিল, কুইন সাউথ টেক্সটাইল, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ওয়াইম্যাক্স ইলেকট্রোড, রূপালী ব্যাংক, সায়হাম টেক্সটাইল,সোনারগাঁও টেক্সটাইল, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, গ্লোবাল হেভি কেমিক্যালস, নাভানা সিএনজি, ডেসকো, ইউনিক হোটেল, স্ট্যান্ডার্ড ইনস্যুরেন্স, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স, উত্তরা ফাইন্যান্স, উসমানিয়া গ্লাস, খুলনা পাওয়ার, নাহি অ্যালুমিনিয়াম, দুলামিয়া কটন, সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল ও এমএল ডায়িং।

বিজ্ঞাপন
দীর্ঘদিন ধরে যেসব কোম্পানির শেয়ার ফ্লোর প্রাইসে আটকে আছে, সেখান থেকে স্বল্প মূলধনি ও ৫০ টাকা পর্যন্ত যেগুলোর শেয়ারের দাম, সেগুলোরই সর্বনিম্ন মূল্যস্তর তুলে নেওয়া হয়েছে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে এসব কোম্পানির শেয়ারের তেমন কোনো লেনদেন হচ্ছিল না। কোম্পানিগুলোর শেয়ারের বিক্রেতা থাকলেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছিল না।

যে কারণে ৬৬ কোম্পানি

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত তিন শতাধিক কোম্পানির মধ্যে কেন শুধু ৬৬টি কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া হলো, তার কোনো ব্যাখ্যা বিএসইসির বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া হয়নি। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে যেসব কোম্পানির শেয়ার ফ্লোর প্রাইসে আটকে আছে, সেখান থেকে স্বল্প মূলধনি ও ৫০ টাকা পর্যন্ত যেগুলোর শেয়ারের দাম, সেগুলোরই সর্বনিম্ন মূল্যস্তর তুলে নেওয়া হয়েছে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে এসব কোম্পানির শেয়ারের তেমন কোনো লেনদেন হচ্ছিল না। কোম্পানিগুলোর শেয়ারের বিক্রেতা থাকলেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছিল না। এখন মূল্যস্তর তুলে নেওয়ার ফলে কোম্পানিগুলোর শেয়ারের লেনদেন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এ ছাড়া শেয়ারবাজারের সব শেয়ারে ফ্লোর প্রাইস থাকলেও ৬৬ কোম্পানির ওপর থেকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ, এসব শেয়ারের দামের উত্থান-পতন সূচকে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারবে না। তাই বর্তমানে ১১০টি কোম্পানির দাম ফ্লোর প্রাইসে আটকে থাকলেও ৬৬টিকে বেছে নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, ডিএসইর মোট বাজার মূলধনে এ ৬৬টি কোম্পানির অংশ মাত্র সোয়া ৫ শতাংশের কাছাকাছি। তাই ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ায় সব কটির দাম যদি দিনের সর্বোচ্চ কমেও যায়, তাতেও সূচকে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না। কিন্তু দাম কমে লেনদেন বাড়লে তাতে বাজারের মোট লেনদেন বাড়তে পারে। ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া হলেও প্রতিদিনের দামের উত্থান-পতনের সর্বোচ্চ সীমা তথা সার্কিট ব্রেকার থাকবে। এতে কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম এক দিনে ১০ শতাংশের বেশি বাড়তে বা কমতে পারবে না।

শেয়ারবাজার থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন