গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বাংলাদেশে ডলারসংকট দেখা দেয়। ফলে টাকার মান ক্রমাগত পড়তে থাকে আর ডলার শক্তিশালী হয়। একপর্যায়ে ডলারের দাম ৮৫–৮৬ টাকা থেকে বেড়ে ১১০-১১৫ টাকায় উঠে যায়। তবে বাড়তি দামেও ডলার মিলছিল না বাজারে। ডলারের দাম বাড়ার কারণে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় গত বছরের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বরে বার্জার পেইন্টসকে ১১২ কোটি টাকা বাড়তি খরচ করতে হয়।

কোম্পানিটি বলছে, ডলারের কারণে এ খরচ না হলে তাদের মুনাফা আরও বাড়ত।
এদিকে ডলারসংকট, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধিসহ অর্থনৈতিক নানা সংকটের মধ্যেও ভালো ব্যবসা করেছে বার্জার। ২০২২ সালের এপ্রিল-ডিসেম্বরে ১ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। ২০২১ সালের একই সময়ের তুলনায় যা প্রায় ২৭৬ কোটি টাকা বেশি। এ ক্ষেত্রে কোম্পানিটির আয় বেড়েছে ১৭ শতাংশের বেশি। এতে মূল ব্যবসা থেকে কোম্পানিটির মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১৮৮ কোটি টাকায়।

ভালো ব্যবসা করার কারণে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩ টাকা ২৬ পয়সায়। অর্থাৎ উল্লিখিত ৯ মাসে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ৪৩ টাকা ২৬ পয়সা মুনাফা করেছে।

বার্জারের আর্থিক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, কোম্পানিটি যে পরিমাণ ব্যবসা করেছে, তার তুলনায় মুনাফা ছিল কম। এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে পণ্যের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়াকে। ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালের এপ্রিল-ডিসেম্বর সময়ে কোম্পানিটির উৎপাদন খরচ বেড়েছে প্রায় ২৭৯ কোটি টাকা বা প্রায় সাড়ে ২৬ শতাংশ। ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বরে ১ হাজার ৫৯২ কোটি টাকার আয়ের বিপরীতে কোম্পানিটির উৎপাদন খরচ ছিল ১ হাজার ৫৫ কোটি টাকা। ২০২২ সালের একই সময়ে ১ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকার আয়ের বিপরীতে উৎপাদন খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা।

উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার পরও বার্জার পেইন্টসের গত ছয় বছরের মধ্যে রেকর্ড ব্যবসা করেছে সংকটের বছরে। ২০১৭ সালের পর বার্জারের প্রথমবারের মতো ১ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে।

সংকটের মধ্যেও এত ভালো ব্যবসা করার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের চিফ ফাইন্যান্স কন্ট্রোলার মো. গোলাম মোস্তফা প্রথম আলোকে বলেন, ‘কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও ডলারসংকটের কারণে আমাদের পণ্যের দাম বাড়াতে হয়েছিল। এতেই মূলত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ আয় হয়েছে গত বছরের এপ্রিল-ডিসেম্বর সময়ে। তবে পরিমাণের দিক থেকে বিক্রি খুব বেশি বাড়েনি।’