পিপলস্ ইনস্যুরেন্সের মুনাফা বেড়েছে এক বছরে সোয়া ৬ কোটি টাকা
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি পিপলস্ ইনস্যুরেন্সের মুনাফা এক বছরে ৬ কোটি ২৬ লাখ টাকা বেড়েছে। মুনাফা বৃদ্ধির পর শেয়ারধারীদের জন্য সাড়ে ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে কোম্পনিটির পরিচালনা পর্ষদ।
আজ বৃহস্পতিবার পিপলস্ ইনস্যুরেন্সের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কোম্পানির ৪৫৩তম পরিচালনা পর্ষদ সভায় নগদ লভ্যাংশ বিতরণের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সময় গত বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পিপলস্ ইনস্যুরেন্সের চেয়ারম্যান জাফর আহমেদ পাটোয়ারী। এ সময় পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান, পরিচালক, স্বতন্ত্র পরিচালক ও কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে পিপলস্ ইনস্যুরেন্স। এতে জানানো হয়, গত বছর কোম্পানিটির কর–পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ১৯ কোটি ৩৭ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। এটি আগের বছরে ছিল ১৩ কোটি ১১ লাখ ৩২ হাজার টাকা। সে হিসাবে এক বছরে কোম্পানিটির নিট মুনাফা ৬ কোটি ২৬ লাখ ৪৪ হাজার টাকা বেড়েছে।
মুনাফা বৃদ্ধি পাওয়ায় কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় বা ইপিএসও বেড়েছে। ২০২৪ সালে কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় ছিল ২ টাকা ৮৪ পয়সা। গত বছর সেটি বেড়ে হয়েছে ৪ টাকা ১৯ পয়সা।
২০২৫ সালের জন্য পিপলস্ ইনস্যুরেন্স সাড়ে ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। কোম্পানিটি তাদের মোট লাভের মধ্য থেকে শেয়ারধারীদের ৪ কোটি ৮৫ লাখ ১০ হাজার টাকা দেবে। অর্থাৎ প্রতি শেয়ারের বিপরীতে বিনিয়োগকারীরা পাবেন ১ টাকা ৫ পয়সা। বাকি টাকা কোম্পানির সঞ্চিতি ও ভবিষ্যৎ তহবিলে রাখা হবে। পাশাপাশি সরকারি নিয়ম মেনে বিভিন্ন লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত বছরের তুলনায় পিপলস্ ইনস্যুরেন্সের প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে সম্পদের পরিমাণ (এনএভি) উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালে যেখানে শেয়ারপ্রতি সম্পদ ছিল ৩৪ টাকা ৮১ পয়সা; ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ টাকা ৯৫ পয়সায়। এর মানে হলো, এক বছরে কোম্পানির মোট সম্পদের মূল্য বেড়েছে। পাশাপাশি কোম্পানির হাতে নগদ টাকার প্রবাহ বা ক্যাশ ফ্লোতেও বড় উন্নতি হয়েছে। শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালনাগত নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) ৩ টাকা ৬৬ পয়সা থেকে বেড়ে ৫ টাকা ২৪ পয়সা হয়েছে।
পরিচালনা পর্ষদের সভায় আগামী ২৪ জুন কোম্পানির ৪১তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের পাশাপাশি সভায় চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনও চূড়ান্ত করা হয়। প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে কোম্পানিটির মুনাফায় বড় গতি এসেছে। গত বছরের প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল মাত্র ৬৩ পয়সা। চলতি বছরের একই সময়ে তা দ্বিগুণের বেশি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ২৯ পয়সায়। পাশাপাশি কোম্পানির শেয়ারপ্রতি সম্পদের মূল্য (এনএভি) ৩৫ টাকা ৪৪ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৯ টাকা ২৪ পয়সা।
পরিচালনা পর্ষদের সভায় উপস্থিত ছিলেন কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল হক, পরিচালক আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, মোহাম্মদ আলী হোসেন, ফরহাদ আহমেদ আকন্দ, কবির আহমেদ, ফারজানা জাহান আহমেদ, সাইফুল আরেফিন খালেদ, মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান পাটোয়ারী, মো. আজিজুল হক, জ্যোৎস্না আরা বেগম, মোহাম্মদ মিজান ভিক্টর মহসিন, নুভেদ মিজান ইকবাল, স্বতন্ত্র পরিচালক দিলশাদ আহমেদ, রুবাইয়াত আরা ও এম এম জি সারওয়ার।