শেয়ারবাজার নিয়ে আবারও হতাশা ভর করেছে বিনিয়োগকারীদের মনে। এতে সব শ্রেণির বিনিয়োগকারীর মধ্যেই এখন শেয়ার বিক্রির প্রবণতা বেড়ে গেছে। এ কারণে বাজারে একদিকে কমছে লেনদেন, অন্যদিকে বিক্রির চাপে কমছে শেয়ারের দাম ও সূচক।
পতনের ধারাবাহিকতায় গতকাল সোমবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩১ পয়েন্ট কমে ৬ হাজার ২৫৭ পয়েন্টে নেমে এসেছে। তাতে সূচকটি ফিরে গেছে সাড়ে তিন মাস আগের অবস্থানে। এর আগে গত ২৪ এপ্রিল ডিএসইএক্স সূচকটি ৬ হাজার ২৫২ পয়েন্টে নেমেছিল।
ডিএসইএক্স গতকাল ৩১ পয়েন্ট কমেছে। এই পতনে এদিনের বাজারের সামগ্রিক মন্দাবস্থা খুব বেশি আঁচ করা যাবে না। তাই কয়েকটি তথ্য তুলে ধরা হলো যাতে পাঠকের পক্ষে বাজারের চিত্রটি বুঝতে কিছুটা সুবিধা হবে। ঢাকার বাজারে গতকাল প্রথম এক ঘণ্টায় ২৫২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়।
এর মধ্যে অবশ্য ৮৯টিরই দাম আটকে ছিল ফ্লোর প্রাইস বা সর্বনিম্ন মূল্যস্তরে। বাকি ১৬৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় ছিল মাত্র ৩টি কোম্পানি। অর্থাৎ ১৬০টি কোম্পানির শেয়ারের দরপতন ঘটেছে। ঢাকার বাজারে টপ টেন গেইনার বা মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানির একটি সূচক বা তালিকা আছে। লেনদেনের প্রথম ঘণ্টায় সেই তালিকাই ছিল অপূর্ণাঙ্গ। যদিও দিন শেষে ১৯টি কোম্পানির মূল্যবৃদ্ধি ঘটে, তাতে পূর্ণতা পায় টপ টেন গেইনার তালিকাটি।
বাজার পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল শেয়ারবাজারের শীর্ষস্থানীয় ছয়টি ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তাঁরা সবাই একটি বিষয়ে একই রকম মত দেন—তা হলো বিনিয়োগকারীদের মনে এখন চরম হতাশা ভর করেছে। ফলে সবাই পেনিক সেল বা আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন।
কেন বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি করছেন জানতে চাইলে একাধিক শীর্ষ নির্বাহী জানান, বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর একটি বড় অংশই ফ্লোর প্রাইসে আটকে আছে। সেসব শেয়ার লেনদেনের সুযোগ পাচ্ছেন না বিনিয়োগকারীরা। তাই যেসব কোম্পানির শেয়ারের দাম ফ্লোর প্রাইসের ওপরে আছে, সেগুলো বিক্রি করে দিয়ে টাকা তুলে নিচ্ছেন তাঁরা। কারণ, এসব শেয়ারও ফ্লোর প্রাইসে আটকে গেলে তখন আর বিক্রি করতে পারবেন না, এমন আশঙ্কা রয়েছে তাঁদের মধ্যে।
বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে কথা বলে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রি করে দেওয়ার প্রবণতা সম্পর্কে জানা যায়। তাঁরা বলছেন, বাজারে নতুন কোনো বিনিয়োগ নেই। আরও বেশি লোকসান হতে পারে, এ শঙ্কায় যে যেখানে পারছেন শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন। তারল্যসংকটে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও বাজারে নিষ্ক্রিয়। ফলে ক্রেতার তুলনায় বিক্রেতা বেশি বাজারে।
এদিকে শেয়ার ও বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাব সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড তথা সিডিবিএলের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দিনে শেয়ারবাজারে শেয়ারশূন্য হয়েছে ৮০৬টি বিও হিসাব।
অর্থাৎ মাত্র তিন দিনে ৮০৬ বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রি করে তাঁদের বিও হিসাব খালি করেছেন। ৮ আগস্ট শেয়ারবাজারে শেয়ারশূন্য বিও হিসাব ছিল ২ লাখ ৯০ হাজার ৮৪৭টি। গত রোববার সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৯১ হাজার ৬৫৩টিতে।
ঢাকার বাজারে গতকাল মোট ৪১৩ কোটি টাকার লেনদেন হয়। ৬ আগস্ট থেকে ডিএসইতে লেনদেন ঘুরপাক খাচ্ছে ৪০০ কোটি
টাকার আশপাশে।