লেনদেন শুরুর নির্ধারিত সময়ে বেশ কিছুক্ষণ পর ডিএসইর ওয়েবসাইটে একটি নোটিশ দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, অনিবার্য কারণে লেনদেন শুরু হতে কিছুটা বিলম্ব হবে। ওই নোটিশের কিছুক্ষণ পর জানানো হয়, সাড়ে ৯টার বদলে সাড়ে ১০টায় লেনদেন শুরু হবে। কিন্তু সাড়ে ১০টায়ও লেনদেন শুরু করতে পারেনি ডিএসই। শেষে দেড় ঘণ্টা বিলম্বে ১১টায় লেনদেন শুরু হয়। ফলে এদিন সব মিলিয়ে ডিএসইতে সাড়ে তিন ঘণ্টার লেনদেন হয়।

ডিএসইর পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভুলবশত ৭০টি কোম্পানির বদলে সব কোম্পানির ওপর থেকে মূল্যস্তর বা সার্কিট ব্রেকার তুলে দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী, লভ্যাংশ ঘোষণার পরবর্তী কার্যদিবসে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ারের দামের ওপর কোনো মূল্যস্তর বা সার্কিট ব্রেকার থাকে না। গত সপ্তাহের শেষ দিনে ৭০টি কোম্পানি লভ্যাংশ ঘোষণা করে। তাই এসব কোম্পানির শেয়ারের দামের ওপর গতকাল কোনো সার্কিট ব্রেকার থাকার কথা নয়। কিন্তু ৭০ কোম্পানির শেয়ারের বদলে সব কোম্পানির ওপর থেকে সার্কিট ব্রেকার তুলে নেয় ডিএসইর সংশ্লিষ্ট বিভাগ। এতেই গতকাল শুরু করতে গিয়ে বিপত্তি বাধে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বিনিয়োগকারী প্রথম আলোকে বলেন, শুক্র ও শনিবার ছুটি থাকার পরও ডিএসইর এ ধরনের ভুল অত্যন্ত অপেশাদার আচরণেরই বহিঃপ্রকাশ। কিছুদিন পরপরই সংস্থাটির কারিগরি ত্রুটির কারণে লেনদেন বিঘ্নের ঘটনা ঘটে। আর এতে ভোগান্তিতে পড়েন নিরপরাধ বিনিয়োগকারী। এ কারণে ডিএসইর অপেশাদারত্বের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান ওই বিনিয়োগকারী।

এর আগে গত সোমবার কারিগরি ত্রুটির কারণে ডিএসইতে লেনদেন বিঘ্নিত হয়। ঢাকার বাজারে ওই দিন লেনদেন হয় মাত্র ১ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট। এমনিতে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা ১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত টানা ৪ ঘণ্টা ২০ মিনিট লেনদেন হয় শেয়ারবাজারে।

এদিকে বিলম্বে লেনদেন শুরুর পর গতকাল ডিএসইতে সূচক ও লেনদেন উভয়ই কমে গেছে। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স এদিন ৪৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৬ হাজার ৩৩৪ পয়েন্টে। আর দিন শেষে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৮২৭ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ২৭২ কোটি বা ২৫ শতাংশ কম।