এক বছরে ৬৭৩ কোটি টাকা মুনাফা কমেছে জিপির

গ্রামীণফোনফাইল ছবি

দেশের বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন গত বছর ১৫ হাজার ৮০৬ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। তার আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে কোম্পানিটি ব্যবসা করেছিল ১৫ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে গ্রামীণফোনের ব্যবসা কমেছে ৩৯ কোটি টাকার।

ব্যবসা যতটা কমেছে, তার চেয়ে বেশি কমেছে মুনাফা। গত বছর শেষে গ্রামীণফোন (জিপি) মুনাফা করেছে ২ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকা। তার আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে কোম্পানিটি মুনাফা করেছিল ৩ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা কমেছে ৬৭৩ কোটি টাকা বা প্রায় সাড়ে ১৮ শতাংশ।

এদিকে গত বছর জিপি যে মুনাফা করেছে, তার সিংহভাগই নগদ লভ্যাংশ হিসেবে শেয়ারধারীদের মধ্যে বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত বছরের জন্য কোম্পানিটি সব মিলিয়ে ২১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ১১০ শতাংশ বা শেয়ারপ্রতি ১১ টাকা করে অন্তর্বর্তী লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে। বাকি ১০৫ শতাংশ বা ১০ টাকা ৫০ পয়সা বছর শেষের চূড়ান্ত লভ্যাংশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। গত সোমবার অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় লভ্যাংশের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে গত মঙ্গলবার তা দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে শেয়ারধারীদের জানানো হয়েছে।

ঘোষিত লভ্যাংশ অনুযায়ী, গত বছরের জন্য কোম্পানিটি সব মিলিয়ে ২১৫ শতাংশ যে নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, সেই বাবদ বিতরণ করবে প্রায় ২ হাজার ৯০৩ কোটি টাকা। কোম্পানিটি জানিয়েছে, জিপি গত বছর যে মুনাফা করেছে, তার ৯৮ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ হিসেবে শেয়ারধারীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। যার অর্ধেকের বেশি এরই মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণও করা হয়েছে।

আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত বছর ব্যবসার চেয়ে কোম্পানিটির মুনাফা বেশি কমেছে মূলত ঋণের সুদসহ আর্থিক খরচ ও ডলারের বিনিময় মূল্যজনিত ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়ে যাওয়ায়। গত বছর ঋণের সুদসহ আর্থিক খাতে কোম্পানিটির খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪১ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে এই খাতে কোম্পানিটির খরচ ছিল ৪৯৯ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে গ্রামীণফোনের আর্থিক খরচ বেড়েছে ১৪২ কোটি টাকা। একইভাবে ডলারের বিনিময় মূল্যের কারণে এক বছরের ব্যবধানে জিপির খরচ বেড়েছে ১৭ কোটি টাকা। গত বছর শেষে ডলারের বিনিময় মূল্যের কারণে কোম্পানিটির খরচ বেড়ে দাঁড়ায় ৭৭ কোটি টাকায়। ২০২৪ সালে যার পরিমাণ ছিল ৬০ কোটি টাকা।

ব্যবসা কমলেও ২০২৪ সালের চেয়ে গত বছর গ্রামীণফোন কর বাবদ প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব দিয়েছে সরকারকে। গত বছর পরিচালন মুনাফা থেকে কর বাবদ কোম্পানিটি সরকারের কোষাগারে জমা দেয় ১ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে যার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা।