ঋণ করে ঋণ শোধ করবে রিংশাইন টেক্সটাইলস

শেয়ারবাজারপ্রতীকী ছবি

ঋণ করে ব্যাংকের চড়া সুদের ঋণ পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি রিংশাইন টেক্সটাইলস। গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের কথা বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছে কোম্পানিটি।

রিংশাইন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইস্টার্ন ব্যাংকের সাড়ে ৯ কোটি টাকার ঋণ পরিশোধে কোম্পানিটি তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান লার্ক টেক্সটাইলস থেকে বিনা সুদে ১০ বছর মেয়াদি ঋণ নেবে। ১০ বছরে ১০টি কিস্তিতে লার্ক টেক্সটাইলসের ঋণ শোধ করবে কোম্পানিটি। ২০২৭ সাল থেকে এই ঋণ পরিশোধ শুরু হবে।

কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, শেয়ারধারীদের অনুমোদনের পর পরিচালনা পর্ষদের সভায় নেওয়া এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে। আর শেয়ারধারীদের অনুমোদনের জন্য শিগগিরই কোম্পানিটি বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) বা বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আহ্বান করবে। সেখানে শেয়ারধারীরা এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করলে ঋণ করে ঋণ শোধের কার্যক্রম শুরু করবে কোম্পানিটি।

রিংশাইন কর্তৃপক্ষ বলছে, বিনা সুদে ঋণ নিয়ে ব্যাংকের উচ্চ সুদের ঋণ পরিশোধ করলে তাতে কোম্পানিটির সুদ ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যাবে। সেই সঙ্গে কোম্পানির আয়ও বাড়বে। কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, ঋণ পুনঃ তফসিল সুবিধার আওতায় রিংশাইন ব্যাংক ঋণ পরিশোধের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে বিশেষ আর্থিক কিছু ছাড় সুবিধা পেয়েছে।

ডিএসইর ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের এই কোম্পানি তালিকাভুক্তি বছরটিতেই শুধু শেয়ারধারীদের লভ্যাংশ দিয়েছে। এরপর গত ছয় বছরে কোম্পানিটি শেয়ারধারীদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি। বিপুল ব্যাংকঋণের কারণে এরই মধ্যে কোম্পানিটি আর্থিক চাপে পড়েছে।

কোম্পানিটিকে শেয়ারবাজারে আনার ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়মেরও ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর মাধ্যমে শেয়ারবাজারে আসার আগে কোম্পানিটি টাকা ছাড়া বিপুল শেয়ার ইস্যু করেছে কিছু সুবিধাভোগীর বিপরীতে। পরে তালিকাভুক্তির পর বিনা খরচে পাওয়া সেই শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে বিপুল অর্থ তুলে নিয়েছে ওই সুবিধাভোগী শ্রেণি। এর বিপরীতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা পড়েছেন বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) তদন্তেও রিংশাইনের শেয়ার নিয়ে বিপুল অনিয়মের তথ্য উঠে আসে।

বর্তমানে শেয়ারবাজারে দুর্বল মানের কোম্পানি হিসেবে জেড শ্রেণিভুক্ত রিংশাইন টেক্সটাইলস। কোম্পানিটির শেয়ারের বর্তমান বাজারমূল্য ৩ টাকা ৭০ পয়সা। কোম্পানিটি সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে গত বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকের। ওই প্রান্তিক শেষে কোম্পানিটি ৪৬ কোটি টাকার বেশি লোকসান করে।