নয় মাসে বিএটিবিসির সিগারেট বিক্রি কমেছে ২,৩৩৪ কোটি টাকার, কেন

বিএটি বাংলাদেশ

সিগারেট প্রস্তুত ও বাজারজাতকারী বহুজাতিক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর (বিএটি) সিগারেট বিক্রি প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা কমে গেছে। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে কোম্পানিটির বিক্রি কমে দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৩২ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির বিক্রি কমেছে ২ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা বা ৭ শতাংশের বেশি। এর মধ্যে গত জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকেই (তিন মাসে) কমেছে ২ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা।

কোম্পানিটির গত জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে এ তথ্য পাওয়া গেছে। আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ মাসে কোম্পানিটির যে বিক্রি কমেছে, তার সিংহভাগই কমেছে গত জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে। এই তিন মাসেই কোম্পানিটির বিক্রি কমেছে ২ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা। কোম্পানিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, চলতি অর্থবছরের বাজেটে সিগারেটের মূল্যস্তর নির্ধারণসংক্রান্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সিদ্ধান্ত বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কোম্পানিটির বিক্রিতে।

বিক্রি কমে যাওয়ায় একদিকে কমেছে কোম্পানিটির মুনাফা অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আদায়েও বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। সরকারকে রাজস্ব প্রদানকারী শীর্ষ কোম্পানিগুলোর মধ্যে অন্যতম ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি)। সিগারেট বিক্রি বাবদ এই কোম্পানির কাছ থেকে বড় অঙ্কের সম্পূরক শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর বা মূসক আদায় করে সরকার। কিন্তু বিক্রি কমে যাওয়ায় গত ৯ মাসে সম্পূরক শুল্ক ও মূসক বাবদ কোম্পানিটির কাছ থেকে আয় কমে গেছে। চলতি বছরের ৯ মাসে সম্পূরক শুল্ক ও মূসক (ভ্যাট) বাবদ সরকার আয় করেছে ২৫ হাজার ৫২৬ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ২৭ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে শুল্ক ও ভ্যাট বাবদ সরকারের রাজস্ব কমেছে ১ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা বা ৬ শতাংশের বেশি। শুল্ক-ভ্যাটের পাশাপাশি কমেছে আয়করও। এ বছরের প্রথম ৯ মাসে আয়কর বাবদ কোম্পানিটি সরকারকে দিয়েছে ৬৮৭ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এই বাবদ দিয়েছিল ৭৫৯ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো থেকে সরকার আয়কর কমেছে ৭২ কোটি টাকা।

বিক্রি কমে যাওয়ায় কোম্পানিটির মুনাফাও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গেছে। এক বছরের ব্যবধানে মুনাফা কমেছে ২০৭ কোটি টাকা বা প্রায় ২৯ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে কোম্পানিটি মুনাফা করেছে ৫১৩ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৭২০ কোটি টাকা।

কোম্পানিসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের বাজেট ও বাজেট-পরবর্তী সিগারেটের স্তরভিত্তিক নতুন মূল্য নির্ধারণের ফলে বিক্রি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গেছে। সবচেয়ে বেশি কমেছে নিম্নস্তরের সিগারেটের বিক্রি। সিগারেটের বাজারের বড় অংশই এই স্তরের। ফলে এই স্তরের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিক্রিও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গেছে।

আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ মাসে কোম্পানিটির বিক্রি যতটা কমেছে, তার প্রায় ৯২ শতাংশই কমেছে গত জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের বাজেটে সিগারেটের মূল্য নির্ধারণ বিষয়ে নেওয়া এনবিআরের সিদ্ধান্তের ফলে কোম্পানিটির বিক্রি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গেছে।