দুই এসএমই কোম্পানির ১৭ কোটি টাকা কোথায় খরচ, তদন্তে নেমেছে বিএসইসি

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ভবনসংগৃহীত
প্রথম আলোকে নির্ভরযোগ্য সূত্র হিসেবে পেতে হলেএখানে ক্লিক করুন

শেয়ারবাজারে এসএমই বোর্ডে তালিকাভুক্ত দুই এসএমই কোম্পানির অর্থের অপব্যবহারের তদন্তে নেমেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কোম্পানি দুটি হলো ওয়েব কোটস ও কৃষিবিদ সিড। কোম্পানি দুটি যোগ্য বিনিয়োগকারী প্রস্তাব বা কিউআইও পদ্ধতিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে শেয়ারবাজারে এসএমই বোর্ডে তালিকাভুক্ত হয়।

কোম্পানি দুটি মিলে শেয়ারবাজার থেকে ১৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা সংগ্রহ করে। এর মধ্যে কৃষিবিদ সিড সংগ্রহ করে ১১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। আর ওয়েব কোটস সংগ্রহ করে ৫ কোটি টাকা। ব্যবসা সম্প্রসারণ, ঋণ পরিশোধ, যন্ত্রপাতি ক্রয় ও চলতি মূলধন হিসেবে এসব অর্থ খরচ করার কথা জানিয়েছিল কোম্পানি দুটি। তবে কিউআইওর মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না—এ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে বিএসইসি। এ জন্য গঠন করা হয়েছে আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি। ২ নভেম্বর এই কমিটি গঠন করা হয়।

বিএসইসি সূত্রে জানা যায়, কৃষিবিদ সিডের বিষয়ে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিএসইসির উপপরিচালক মওদুদ মোমেন ও সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রুমান হোসেনকে। আর ওয়েব কোটসের তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন কমিশনের যুগ্ম পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম ও সহকারী পরিচালক ফারহানা ওয়ালেজা।

বিএসইসির আদেশে বলা হয়েছে, কিউআইওর মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ যে উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে, সেই খাতে ব্যবহার হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি কোম্পানির দাখিল করা আর্থিক বিবরণী পরীক্ষা করে অর্থ ব্যয়ের বিপরীতে যেসব প্রকল্প, সম্পদ বা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে, তা সরেজমিনে যাচাই করতে হবে। এমনকি কিউআইওর অর্থ লেনদেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকেও শনাক্ত করতে বলা হয়েছে তদন্ত দলকে। সেই সঙ্গে কোম্পানি দুটির ব্যাংক হিসাবের লেনদেনের বিস্তারিত তথ্যও পরীক্ষা করবে তদন্ত দল।

বিএসইসির আদেশে আরও বলা হয়েছে, অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে তার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের ভূমিকা স্পষ্টভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। পাশাপাশি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম ঘটে থাকলে তার মাধ্যমে সিকিউরিটিজ আইন, বিধি বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা কোন কোন নির্দেশনার ব্যত্যয় হয়েছে এবং তার সঙ্গে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা, কোম্পানি সচিব, নিরীক্ষক কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তির ভূমিকা কী, তা-ও সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করতে হবে তদন্ত দলকে।

শেয়ারবাজারসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কৃষিবিদ সিড শেয়ারবাজারের এসএমই বোর্ডে তালিকাভুক্ত হয় ২০২২ সালে। আর ওয়েব কোটস তালিকাভুক্ত হয়েছিল ২০২৪ সালে। তালিকাভুক্তির জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের আগে কোম্পানি দুটি কোন খাতে কত অর্থ ব্যয় করবে এবং কত দিনের মধ্যে ব্যয় করবে, তার পরিকল্পনা দিয়েছিল।