তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে সূচক ও লেনদেন

শেয়ারবাজারগ্রাফিকস: প্রথম আলো

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ সোমবারও সূচকের বড় উত্থান হয়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনও। বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সূচকের এই উত্থান ও লেনদেন বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে বাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল দিন শেষে ৫৬ পয়েন্ট বা ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে গত রোববার এই সূচক ৭৬ পয়েন্ট বা দেড় শতাংশের বেশি বেড়েছিল।

টানা দুই দিনের বড় উত্থানে গত ২৭ নভেম্বরের পর আবারও ডিএসইএক্স সূচকটি ৫ হাজার পয়েন্টের মাইলফলক ছাড়িয়েছে। আজ দিন শেষে এই সূচক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৯২ পয়েন্টে। গত প্রায় সাড়ে তিন মাসের মধ্যে এটিই ডিএসইএক্সের সর্বোচ্চ অবস্থান। এর আগে সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর ডিএসইএক্স সূচকটি ৫ হাজার ১১৬ পয়েন্টের সর্বোচ্চ অবস্থানে ছিল।

সূচকের দুই দিনের বড় উত্থানে বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আবারও আগ্রহী করে তুলেছে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁরা বলছেন, এ কারণে রোববারের তুলনায় গতকাল লেনদেন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। তার মানে বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাওয়ায় শেয়ারের হাতবদলও বেড়েছে। তাতে সোমবার দিন শেষে ঢাকার বাজারের লেনদেন বেড়ে দাঁড়ায় ৫৯৩ কোটি টাকা। গত প্রায় তিন মাসের মধ্যে এটিও ঢাকার বাজারের সর্বোচ্চ লেনদেন। এর আগে সর্বশেষ গত বছরের ২৫ নভেম্বর ডিএসইতে সর্বোচ্চ ৬৩৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল।

বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আজকের বাজারে সূচক ও লেনদেনের উত্থানের মূল চালিকা শক্তি ছিল বড় ও মৌল ভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির শেয়ার। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল স্কয়ার ফার্মা, বেক্সিমকো ফার্মা, ব্র্যাক ব্যাংক, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, লাফার্জহোলসিম সিমেন্ট। এই পাঁচ কোম্পানির শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধিতে ডিএসইএক্স সূচকটি প্রায় ২৫ পয়েন্ট বেড়েছে। এই পাঁচ কোম্পানির সম্মিলিত লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৬ কোটি টাকা, যা ডিএসইর মোট লেনদেনের সাড়ে ৯ শতাংশ।

জানতে চাইলে ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও শেষ পর্যন্ত কিছু উল্লেখযোগ্য আইনি সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে। এসব সংস্কারে বাজার অংশীজনদের মতামতও গুরুত্ব পেয়েছে। মিউচুয়াল ফান্ড পরিচালনা, মার্জিন ঋণ ও সর্বশেষ আইপিও–সংক্রান্ত বিধিমালার গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। ফলে আশা করা যায়, বাজারে এসব খাতে শৃঙ্খলা ফিরবে। আবার দীর্ঘদিন ধরে শেয়ারবাজার তলানিতে রয়েছে। এমন এক পরিস্থিতি নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। তাই সবমিলিয়ে নতুন ও নিষ্ক্রিয় বিনিয়োগকারীরা বাজারমুখী হতে শুরু করেছেন। তার কিছুটা বহিঃপ্রকাশ শেয়ারের দাম ও লেনদেনে দেখা যাচ্ছে। বড় ধরনের আর কোনো অনিশ্চয়তা তৈরি না হলে শেয়ারবাজারে গতি ফিরবে বলে মনে করছি আমরা।’

ঢাকার বাজারে আজ খাতভিত্তিক লেনদেন ও মূল্যবৃদ্ধিতে শক্তিশালী অবস্থানে ছিল ওষুধ খাত। এ ছাড়া কয়েকটি ব্যাংকের শেয়ারও সূচকের উত্থানে ভূমিকা রেখেছে। এ কারণে বাজারবিশ্লেষকেরা বলছেন, গত দুই দিনের বাজারের উত্থান আবেগনির্ভর ছিল না; বরং তুলনামূলকভাবে মৌল ভিত্তি ও তথ্যনির্ভর বিনিয়োগের ফল এটি। দীর্ঘদিন ধরে বাজারে যে অনিশ্চয়তা ছিল, তা পুরোপুরি কাটেনি। তবে বড় কোম্পানিকে কেন্দ্র করে যে স্থিতিশীলতা তৈরি হচ্ছে, তা ইতিবাচক সংকেত।