১,১২৫ কোটি টাকা মুনাফা ওয়ালটনের

২০২৫–২৬ অর্থবছরে এক হাজার ১২৫ কোটি টাকা মুনাফা করেছে ইলেকট্রনিকস খাতের দেশীয় জায়ান্ট কোম্পানি ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ। ২০২৩–২৪ অর্থবছরের পর এটি কোম্পানিটির সর্বোচ্চ মুনাফা। সর্বশেষ ২০২৩–২৪ অর্থবছরে ওয়ালটন ১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকার মুনাফা করেছিল। আর ২০২৪–২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটির মুনাফা ছিল ১ হাজার ৩৭ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে মুনাফা বেড়েছে ৮৮ কোটি টাকা।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ওয়ালটন আজ রোববার দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে মুনাফার এই তথ্য শেয়ারধারীদের জানিয়েছে। এর আগে গত শনিবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় গত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়। সেখানে মুনাফার এই তথ্য উঠে এসেছে। একই সভায় আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে গত অর্থবছরে শেয়ারধারীদের জন্য ১৯০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে। যার মধ্যে ১৮০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ। সেই হিসাবে গত অর্থবছরের জন্য কোম্পানিটি লভ্যাংশ বাবদ শেয়ারধারীদের শেয়ারপ্রতি নগদ ১৮ টাকা এবং প্রতি ১০০ শেয়ারের বিপরীতে ১০টি বোনাস শেয়ার দেবে।

কোম্পানিটি গত অর্থবছরের জন্য যে নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে তাতে লভ্যাংশ বাবদ শেয়ারধারীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। যার বড় অংশই পাবেন কোম্পানিটির উদ্যোক্তা–পরিচালকেরা। কারণ, কোম্পানিটির শেয়ারের ৬৭ শতাংশই রয়েছে তাঁদের মালিকানায়। এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লভ্যাংশ পাবেন ব্যক্তিশ্রেণির সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তাঁদের হাতে রয়েছে প্রায় ৩২ শতাংশ শেয়ার।

মুনাফা বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে ওয়ালটন জানিয়েছে, আগের অর্থবছরের চেয়ে গত অর্থবছরে কোম্পানিটির সুদসহ আর্থিক খরচ ২৬৭ কোটি টাকা কমেছে, যা কোম্পানিটির মুনাফা বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে। ২০২০ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ওয়ালটন। এর পর থেকে কোম্পানিটি প্রতিবছর শেয়ারধারীদের ১০০ শতাংশের বেশি নগদ লভ্যাংশ দিয়ে আসছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল ২০২৩–২৪ অর্থবছরে। গত দুই বছর কোম্পানিটি নগদ লভ্যাংশের পাশাপাশি বোনাস লভ্যাংশও দিয়ে আসছে। দুই বছরই ১০ শতাংশ করে বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে কোম্পানিটি।

ঘোষিত লভ্যাংশের জন্য কোম্পানিটি রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করেছে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর। ওই দিন শেয়ারবাজারে কোম্পানিটির লেনদেন বন্ধ থাকবে। আর সেদিন যার হাতে কোম্পানিটির শেয়ার থাকবে তারা ঘোষিত লভ্যাংশ পাওয়ার যোগ্য দাবিদার বিবেচিত হবেন। আর কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএম হবে ১৫ অক্টোবর। এজিএমে অনুমোদনের পরই ঘোষিত লভ্যাংশ শেয়ারধারীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

এদিকে মুনাফা ও লভ্যাংশের খবরে আজ শেয়ারবাজারে ওয়ালটনের শেয়ারের প্রতি ছিল বিনিয়োগকারীদের বাড়তি আগ্রহ। তাতে দিন শেষে কোম্পানিটি প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের শীর্ষ ২০ কোম্পানির তালিকায় উঠে আসে। এদিন কোম্পানিটির প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকার সমমূল্যের শেয়ারের হাদবদল হয়। দিন শেষে প্রতিটি শেয়ারের দাম ৬ টাকা বা দেড় শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯৯ টাকায়।