জমি বিক্রি থেকে আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যাংকে মেয়াদি আমানত রেখেও বড় অঙ্কের সুদ আয় করেছে কোম্পানিটি। এতে অর্ধবার্ষিক শেষে কোম্পানিটি ২৯ কোটি টাকা মুনাফা করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা বা সাড়ে ১৮ শতাংশ বেশি। মুনাফা বেড়ে যাওয়ায় শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএসও বেড়েছে কোম্পানিটির। গত জুলাই-ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ১৩ পয়সা। ২০২১ সালের একই সময়ে ইপিএস ছিল ২ টাকা ৬৪ পয়সা।

এদিকে মুনাফা ও ইপিএস বেড়ে যাওয়ায় আজ মঙ্গলবার শেয়ারবাজারে কোম্পানিটির শেয়ারের দামও বেড়েছে লাফিয়ে। ঢাকার বাজারে আজ একলাফে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বা ৮ টাকা ৩০ পয়সা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১ টাকা ৫০ পয়সায়। এতে কোম্পানিটি আজ ডিএসইতে মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল।

ইস্টার্ন হাউজিংয়ের আর্থিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের শেষ ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) ১০১ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে কোম্পানিটি। এর মধ্যে জমি বিক্রি করেছে ৮৯ কোটি টাকার। আর ফ্ল্যাট বিক্রি করেছে ১২ কোটি টাকার। এর বাইরে কোম্পানিটি এ সময়ে দেশের ৯ ব্যাংকে ৪৬৬ কোটি টাকা মেয়াদি আমানত (এফডিআর) রেখে প্রায় ১২ কোটি টাকা সুদ আয় করেছে। আগের বছরের একই সময়ে সুদ আয় ছিল ৫ কোটি টাকা। সেই হিসাবে দেখা যাচ্ছে, ইস্টার্ন হাউজিং গত বছরের ছয় মাসে সুদ বাবদ আগের বছরের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি আয় করেছে।

কোম্পানিটির শীর্ষস্থানীয় এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় গত বছরের উল্লিখিত সময়ে কোম্পানিটি নতুন প্রকল্পে খুব বেশি বিনিয়োগ করেনি। এ কারণে হাতে অনেক নগদ অর্থ ছিল। সেই টাকা ব্যাংকে রেখে ভালো আয় করেছে।

আবাসন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সাধারণত যেকোনো অর্থনৈতিক সংকটে জমি বা ফ্ল্যাট কেনার প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়ে যায়। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে মানুষ এসব খাতে বিনিয়োগ করে। তার প্রমাণও মিলেছে ইস্টার্ন হাউজিংয়ের ব্যবসার ক্ষেত্রে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর দেশেও অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেয়। এ সময় সব ধরনের জিনিসপত্রের দাম অনেক বেড়ে যায়। ডলার–সংকট দেখা দেয় ব্যাংক খাতে। এর মধ্যেও জমিতে বিনিয়োগ বেড়েছে মানুষের। এ কারণে ইস্টার্ন হাউজিংয়ের জমি বিক্রি আগের বছরের চেয়ে ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।