এক দিনে আরও ৯ কোম্পানি জেড শ্রেণিতে, প্রভাব কী শেয়ারবাজারে

শেয়ারবাজারগ্রাফিকস: প্রথম আলো

এক দিনে শেয়ারবাজারের আরও ৯টি কোম্পানি দুর্বল মানের ‘জেড’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আজ রোববার থেকে এসব কোম্পানিকে জেড শ্রেণিভুক্ত করার সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। তাতে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রায় এক–তৃতীয়াংশ দুর্বল মানের কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে জেড শ্রেণিভুক্ত হওয়া কোম্পানিগুলো হলো—বেস্ট হোল্ডিংস, জেমিনি সি, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, ওয়াইম্যাক্স ইলেকট্রোড, কাট্টলি টেক্সটাইল, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, বিচ হ্যাচারি ও ফুওয়াং ফুড। এর মধ্যে পাঁচটি কোম্পানি ‘এ’ শ্রেণি থেকে এবং চারটি কোম্পানি ‘বি’ শ্রেণি থেকে জেড শ্রেণিতে নেমে গেছে।

জেড শ্রেণিভুক্ত হওয়ায় আজ থেকে এসব কোম্পানির শেয়ারের বিপরীতে মার্জিন ঋণসুবিধা বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি এসব শেয়ারের লেনদেন নিষ্পত্তিতেও তুলনামূলক বেশি সময় লাগবে।

কেন জেড শ্রেণিতে নামল কোম্পানিগুলো

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নির্ধারিত একাধিক শর্ত পরিপালনে ব্যর্থ হলে কোনো কোম্পানিকে জেড শ্রেণিভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণগুলো হলো—

  • একটানা ছয় মাস উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকা

  • পরপর দুই বছর বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ না দেওয়া

  • নিয়মিত বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আয়োজন না করা

  • কোম্পানির পুঞ্জীভূত লোকসান পরিশোধিত মূলধনের বেশি হওয়া

  • ঘোষিত লভ্যাংশের ন্যূনতম ৮০ শতাংশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিতরণ না করা

এসব শর্তের যেকোনো একটি পরিপালন না হলে নির্ধারিত সময় পরপর সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে জেড শ্রেণিভুক্ত করে স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ। তবে পরবর্তী সময়ে শর্ত পূরণ করতে পারলে কোম্পানিগুলোর আবার অন্য শ্রেণিতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ থাকে।

বাজারে জেড শ্রেণির আধিক্য উদ্বেগজনক

নতুন করে ৯টি কোম্পানি যুক্ত হওয়ায় ডিএসইতে জেড শ্রেণিভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১০টিতে। বর্তমানে তালিকাভুক্ত মোট ৩৬০টি কোম্পানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশই দুর্বল মানের কোম্পানি হিসেবে চিহ্নিত।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জেড শ্রেণির কোম্পানির সংখ্যা বেড়ে যাওয়া মানে বিনিয়োগযোগ্য শেয়ারের পরিসর সংকুচিত হওয়া। একটি বাজারে এতগুলো কোম্পানি দুর্বল মানের হওয়ায় তা দেশি–বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নেতিবাচক বার্তা দেবে এবং দীর্ঘমেয়াদে বাজারের ওপর আস্থার সংকট তৈরি করবে। পাশাপাশি লেনদেনের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কারণ, এসব কোম্পানির শেয়ারের লেনদেন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যাবে।

জেড শ্রেণিভুক্ত হওয়ায় কী ঘটল

জেড শ্রেণিভুক্ত হওয়ায় আজ বাজারে ৯ কোম্পানির মধ্যে ৮টিরই সর্বোচ্চ দরপতন হয়েছে। বাকি একটির শেয়ার লেনদেন বন্ধ থাকায় এই সিদ্ধান্তের প্রভাব সেটির শেয়ারের দামে পড়েনি। নিয়ম অনুযায়ী, শেয়ারবাজারে এক দিনে একটি কোম্পানির শেয়ারের দাম সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।

  • বেস্ট হোল্ডিংসের শেয়ারের দাম সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বা ১ টাকা ৩০ পয়সা কমে দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ১০ পয়সায়।

  • জেমিনি সির শেয়ারের দাম ১৪ টাকা বা ১০ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১২৪ টাকা ৫০ পয়সায়।

  • এস আলম কোল্ড রোল্ডের শেয়ারের দাম ১ টাকা ৪০ পয়সা বা সাড়ে ৯ শতাংশ কমে দাঁড়ায় সাড়ে ১৩ টাকা।

  • আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারের দাম ১০ শতাংশ বা ৪ টাকা কমে হয়েছে ৩৭ টাকা।

  • ওয়াইম্যাক্সের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বা দেড় টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ টাকায়।

  • কাট্টলী টেক্সটাইলের প্রতিটি শেয়ারের দাম এক টাকা ১০ পয়সা বা সাড়ে ৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ১০ টাকায়।

  • ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের লেনদেন বন্ধ থাকায় এটির শেয়ারের দামে শ্রেণি বদলের কোনো প্রভাব পড়েনি।

  • বিচ হ্যাচারির প্রতিটি শেয়ারের দাম ৪ টাকা ৭০ পয়সা বা ১০ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৪২ টাকায়।

  • ফু–ওয়াং ফুডের শেয়ারের দাম ১ টাকা ১০ পয়সা বা ১০ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ১০ পয়সায়।