স্কয়ার ফার্মার ব্যবসা বেড়েছে ৫৬৬ কোটি টাকার

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে ৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ কোম্পানি স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস। তাতে গত অর্থবছরের (২০২৪-২৫) একই সময়ের তুলনায় কোম্পানিটির ব্যবসা বেড়েছে ৫৬৬ কোটি টাকার বা প্রায় ১৫ শতাংশ। গত অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) কোম্পানিটি ব্যবসা করেছিল ৩ হাজার ৭৭২ কোটি টাকার। কোম্পানিটির অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে আজ রোববার স্কয়ার ফার্মা চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর তথা অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন তথ্য দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়।

আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, স্কয়ার ফার্মা চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সব ধরনের খরচ ও কর বাদ দেওয়ার পর ১ হাজার ৪৬৮ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২৭০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা বেড়েছে ১৯৮ কোটি টাকা বা প্রায় ১৬ শতাংশ।

স্কয়ার ফার্মার ভালো মুনাফার ক্ষেত্রে অন্যতম বড় ভূমিকা কোম্পানিটির উৎপাদন খরচের লাগামের মধ্যে রাখতে পারা। কোম্পানিটির উৎপাদিত পণ্য বিক্রির বিপরীতে উৎপাদন খরচ ৫০ শতাংশ বা অর্ধেকের কাছাকাছি। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কোম্পানিটির ৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকার ব্যবসার বিপরীতে উৎপাদন খরচ ২ হাজার ১৮৪ কোটি টাকা, যা মোট বিক্রির প্রায় ৫০ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে কোম্পানিটির ৩ হাজার ৭৭২ কোটি টাকার ব্যবসার বিপরীতে উৎপাদন খরচ ছিল ১ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা, যা ছিল ওই সময়ের মোট বিক্রির প্রায় ৫৩ শতাংশ। অর্থাৎ গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে একদিকে কোম্পানিটির বিক্রি বেড়েছে, অন্যদিকে কমেছে উৎপাদন খরচ। ফলে কোম্পানিটির মুনাফায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

স্কয়ার ফার্মার গত ১০ বছরের আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই ১০ বছরের মধ্যে অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের বিবেচনায় এ নিয়ে দুবার কোম্পানিটি ৪ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেই সর্বোচ্চ পরিমাণ ব্যবসা করেছে। এর আগে ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কোম্পানিটি ৪ হাজার ৩০৫ কোটি টাকার ব্যবসা করেছিল। আর ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কোম্পানিটি ব্যবসা করেছিল ১ হাজার ৭৮৭ কোটি টাকা। সেই হিসাবে গত ১০ বছরের মধ্যে কোম্পানিটির ব্যবসা বেড়ে আড়াই গুণ হয়ে গেছে। আর একই সময়ের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা বেড়ে প্রায় ৪ গুণ হয়েছে।

আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কোম্পানিটি কর-পরবর্তী মুনাফা করেছিল ৩৮৫ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সেই মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৬৮ কোটি টাকায়। অর্থাৎ ধারাবাহিকভাবে কোম্পানিটির ব্যবসা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে মুনাফাও। ব্যবসার আয়ের পাশাপাশি কোম্পানিটির মুনাফার একটি বড় অংশ যুক্ত হচ্ছে ব্যাংক ও বিভিন্ন সিকিউরিটিজে করা বিনিয়োগ থেকে সুদ আয় থেকে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে এই খাত থেকে স্কয়ার ফার্মার আয় হয়েছে ৩৬২ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৩০৫ কোটি টাকা। সেই হিসাবে বিনিয়োগ থেকে আয় বেড়েছে ৫৭ কোটি টাকা।

জানতে চাইলে স্কয়ার ফার্মার নির্বাহী পরিচালক ও প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আগে আমাদের পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে ব্র্যান্ডনির্ভরতা ছিল বেশি। এখন সেই কৌশল বদলে আমরা ভোক্তার চাহিদা ও তাঁদের সমস্যা সমাধানকেন্দ্রিক বিপণন কৌশল গ্রহণ করেছি। তাতে ভোক্তার চাহিদা আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেই কৌশল বাস্তবায়নে আমরা গ্রাম ও শহরে ভোক্তাদের সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে আরও বেশিসংখ্যক মানুষের কাছাকাছি পৌঁছেছি। তাতে আমাদের ব্যবসা বেড়েছে। ভবিষ্যতেও আমরা ব্যবসার এই কৌশল ধরে রাখতে চাই।’

এদিকে মুনাফা বৃদ্ধির খবরেও আজ রোববার শেয়ারবাজারে কোম্পানিটির শেয়ারের দামে তার কোনো ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়নি। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ দিন শেষে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ৭০ পয়সা কমে দাঁড়িয়েছে ২১৮ টাকায়। যদিও তার আগে গত কয়েক দিনে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেশ খানিকটা বেড়েছে। এক মাসের ব্যবধানে এটির শেয়ারের বাজারমূল্য বেড়েছে ২০ টাকা বা ১০ শতাংশের বেশি। গত ৪ জানুয়ারি এটির শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল ১৯৮ টাকা।