গতকাল বৃহস্পতিবার সেনসেক্স ৯৮ পয়েন্ট হ্রাস পেয়ে ৫৩ হাজার ৪১৬ দশমিক ১৫ অঙ্কে থেমেছে। নিফটি ২৮ পয়েন্ট পড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৯৩৮। তাঁদের বক্তব্য, গত তিন দিনে তেলের দাম অনেকটা কমে ১০০ ডলারের নিচে নেমেছে, তা না হলে রুপির দরে আরও পতন হতে পারত।

এদিকে জুন মাসে ভারতের বাজারে মূল্যস্ফীতির হার সামান্য কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ, যা এখনো রিজার্ভ ব্যাংক নির্ধারিত সহনসীমার অনেকটা ওপরে। গবেষণা সংস্থা সিএমআইইর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ।

এর সঙ্গে টাকার দরপতন এবং সরকারের ঋণ নিয়ে মোদি সরকারের উদ্দেশে আক্রমণ শানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে এ-সংক্রান্ত এক তালিকা দিয়েছেন তিনি। দেখিয়েছেন, ২০১৪ সালে সরকারের ঋণ ছিল ৫৬ লাখ কোটি রুপি, ২০২২ সালে তা দাঁড়িয়েছে ১৩৯ লাখ কোটি। বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে উঠেছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশে। ডলারের দর ৫৯ রুপি থেকে পৌঁছেছে ৮০ রুপির কাছাকাছি। রান্নার গ্যাসের দাম ৪১০ রুপি থেকে হয়েছে ১ হাজার ৫৩ রুপি—বেড়েছে মাথাপিছু ঋণ ও বাণিজ্য ঘাটতি।

পাশাপাশি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণকে আক্রমণ করে কংগ্রেস মুখপাত্র গৌরব বল্লভের বক্তব্য, ‘তাঁর (নির্মলা) প্লুটো, ইউরেনাস ও জুপিটার নিয়ে আগ্রহ আছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো দৃষ্টিভঙ্গি নেই।’ উল্লেখ্য, মঙ্গলবার নাসার ওয়েব টেলিস্কোপে তোলা ছবি টুইটারে আপলোড করেছিলেন নির্মলা।

ইকোর্যাপের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, খুচরা মূল্যস্ফীতি যে ২৯৯টি পণ্যের দামের ভিত্তিতে মাপা হয়, তার ২০০টির দাম এখন নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে জোগান পরিস্থিতির মাধ্যমে, বাকি ৯৯টি নিয়ন্ত্রণ করছে চাহিদা। ফলে এখন পর্যন্ত মূল্যস্ফীতির ৬৪ শতাংশ জোগাননির্ভর। মহামারি আর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

এদিকে রুপির এই ধারাবাহিক দরপতনের কারণে ভারতের শীর্ষ ব্যাংক আরবিআই ঘোষণা দিয়েছে, রুপির মাধ্যমেই যাতে আন্তর্জাতিক লেনদেন করা যায়, তেমন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। অর্থাৎ চীন, রাশিয়ার পর ভারতও ডলারকে পাশ কাটানোর নীতি গ্রহণ করেছে।

শেয়ারবাজার থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন