শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের রেকর্ড মুনাফা, ১০ বছরে বেড়ে তিন গুণ
দেশের বেসরকারি খাতের শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের মুনাফা বেড়ে এক বছরের ব্যবধানে দ্বিগুণের বেশি হয়ে গেছে। গত বছর শেষে ব্যাংকটি ৩৬৮ কোটি টাকার বেশি মুনাফা করেছে, যা আগের বছরের চেয়ে ১৯৯ কোটি টাকা বা প্রায় ১১৮ শতাংশ বেশি। গতকাল বুধবার ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় গত বছরের আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়। তাতেই ব্যাংকটির মুনাফার এই চিত্র উঠে এসেছে।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে ব্যাংকটি আজ বৃহস্পতিবার পর্ষদ সভায় চূড়ান্ত হওয়া গত বছরের আর্থিক প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছে। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এ তথ্য বিনিয়োগকারীদের জানানো হয়। দুই স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য থেকে কোম্পানিটির মুনাফাসহ অন্যান্য আর্থিক তথ্য জানা গেছে।
গতকালের একই সভা থেকে গত বছর শেষে শেয়ারধারীদের জন্য লভ্যাংশও ঘোষণা করা হয়েছে। মুনাফা বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংকটি গত বছরের জন্য ১৩ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। তাতে ব্যাংকটির শেয়ারধারী ব্যক্তিরা প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে নগদ লভ্যাংশ পাবেন ১ টাকা ৩০ পয়সা। ২০২৪ সালে ব্যাংকটি শেয়ারধারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। সেই হিসাবে গত বছরের জন্য ঘোষিত লভ্যাংশও আগের বছরের চেয়ে ৩ শতাংশ বেড়েছে।
শাহজালাল ব্যাংকের গত ১০ বছরের আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছর ব্যাংকটি যে মুনাফা করেছে, তা এ সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০১৫ সালে ব্যাংকটি মুনাফা করেছিল ১৩২ কোটি টাকা। ১০ বছরের ব্যবধানে সেই মুনাফা বেড়ে গত বছর শেষে ৩৬৮ কোটি টাকা হয়েছে। সেই হিসাবে ১০ বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির মুনাফা ২৩৬ কোটি টাকা বা প্রায় তিন গুণের মতো বেড়েছে।
এদিকে গত বছরের জন্য ব্যাংকটি যে নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, সেই লভ্যাংশ বাবদ ব্যাংকটি বিতরণ করবে প্রায় ১৪৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ, গত বছর ব্যাংকটি যে মুনাফা করেছে, তার প্রায় ৪০ শতাংশ শেয়ারধারীদের মধ্যে লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ করবে। আর এই লভ্যাংশ বিতরণ করা হবে ব্যাংকটির বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএমের পর। ব্যাংকটি এজিএমের তারিখ নির্ধারণ করেছে আগামী ২৪ মে। ওই এজিএমে ঘোষিত লভ্যাংশ শেয়ারধারীদের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত অনুমোদনের পর বিতরণ করা হবে। ঘোষিত লভ্যাংশ কারা পাবেন, সেটি ঠিক করার জন্য ব্যাংকটি রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করেছে ৩০ এপ্রিল। ওই দিন যাঁদের হাতে ব্যাংকটির শেয়ার থাকবে, তাঁরা ঘোষিত লভ্যাংশ পাবেন।
ব্যাংকটির ঘোষিত লভ্যাংশের বড় অংশই পাবেন উদ্যোক্তা পরিচালকেরা। কারণ, এটির শেয়ারের মালিকানার বড় অংশই তাঁদের হাতে। সর্বশেষ গত মার্চের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটির শেয়ারের ৪৩ শতাংশের বেশি মালিকানা রয়েছে উদ্যোক্তা–পরিচালকদের হাতে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মালিকানা রয়েছে ব্যক্তিশ্রেণির সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে। গত মার্চ শেষে তাঁদের হাতে ছিল ব্যাংকটির শেয়ারের প্রায় ৩৩ শতাংশ মালিকানা। বাকি প্রায় সোয়া ২৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত দ্বিতীয় ব্যাংক হিসেবে শাহজালাল ব্যাংক তাদের গত বছরের মুনাফা ও লভ্যাংশের তথ্য প্রকাশ করেছে। এর আগে প্রাইম ব্যাংক গত বছর শেষে তাদের রেকর্ড মুনাফার তথ্য প্রকাশ করে। এখন পর্যন্ত শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত যে দুটি ব্যাংক গত বছরের মুনাফার তথ্য প্রকাশ করেছে, দুটিরই মুনাফা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে।