অলিম্পিকের ১৫৫ কোটি টাকার শেয়ার কিনবেন আজিজ মোহাম্মদ ভাই

আজিজ মোহাম্মদ ভাইছবি: অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া।

শেয়ারবাজার থেকে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের প্রায় ১৫৫ কোটি টাকার শেয়ার কিনবেন কোম্পানিটির চেয়ারম্যান আজিজ মোহাম্মদ ভাই। আজ বৃহস্পতিবার দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে শেয়ার কেনার এই সিদ্ধান্তের কথা তিনি জানিয়েছেন। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটেও এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

ডিএসইর ওয়েবসাইটে দেওয়া ঘোষণা অনুযায়ী, আজিজ মোহাম্মদ ভাই বাজার থেকে তাঁর মালিকানাধীন এই কোম্পানিটির ১ কোটি শেয়ার কেনার ঘোষণা দিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তিনি এই শেয়ার কেনা সম্পন্ন করবেন। ডিএসইর ব্লক মার্কেটের মাধ্যমে তিনি এই শেয়ার কেনার কাজ সম্পন্ন করবেন বলেও ঘোষণায় বলা হয়।

আজিজ মোহাম্মদ ভাই আশি ও নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রজগতের একজন আলোচিত ব্যক্তি ছিলেন। তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে অন্যতম তিনি। ২০২৪ সালে সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলার রায়ে আদালত আজিজ মোহাম্মদ ভাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। বর্তমানে তিনি পলাতক, দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

সাধারণত শেয়ারবাজারে বড় অঙ্কের শেয়ার লেনদেনের ক্ষেত্রে ক্রেতা–বিক্রেতারা ব্লক মার্কেটকে বেছে নেন। সাধারণ বাজারের চেয়ে ব্লক মার্কেটের লেনদেনের প্রধান পার্থক্য হচ্ছে, ব্লক মার্কেটে ক্রেতা–বিক্রেতার মধ্যে শেয়ারের দরদাম ও পরিমাণ সবই আগে থেকে নির্ধারিত থাকে। শুধু শেয়ারের হাতবদলের আনুষ্ঠানিকতা ব্লক মার্কেটের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়ে থাকে। আর সাধারণ বাজারে ক্রেতা–বিক্রেতা কেউ কারও পরিচিত থাকে না। শেয়ারের দামও নির্ধারিত হয় বাজারের চাহিদার ভিত্তিতে। তাই সাধারণ বাজার থেকে বড় অঙ্কের শেয়ার কিনতে গেলে তার প্রভাব বাজারে পড়ে। উদ্যোক্তাদের শেয়ার কেনার প্রভাব যাতে খুব বেশি শেয়ারের দামে না পড়ে, সে জন্য বড় অঙ্কের শেয়ার লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্লক মার্কেটকে বেছে নেওয়া হয়।

এদিকে আজ বেলা ১১টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঢাকার বাজারে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিটি শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল ১৫৪ টাকা। সেই হিসাবে আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের দেওয়া ঘোষণা অনুযায়ী, কোম্পানিটির বর্তমান বাজারমূল্যে ১ কোটি শেয়ার কিনতে তাঁর প্রায় ১৫৫ কোটি টাকা লাগবে। তবে শেয়ারের দামের হেরফেরে এই টাকার অঙ্কে কিছুটা কমবেশি হতে পারে।

আজিজ মোহাম্মদ ভাই বাজার থেকে যে শেয়ার কেনার ঘোষণা দিয়েছেন, তা কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৫ শতাংশের বেশি। অর্থাৎ এক ঘোষণাতেই তিনি বাজার থেকে কোম্পানিটির ৫ শতাংশের বেশি শেয়ার কিনে নিচ্ছেন। বর্তমানে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের উদ্যোক্তা–পরিচালকদের হাতে রয়েছে কোম্পানিটির মোট শেয়ারের প্রায় ৩২ শতাংশ। নতুন করে আজিজ মোহাম্মদ ভাই ১ কোটি শেয়ার কিনে নিলে উদ্যোক্তা–পরিচালকদের শেয়ারের পরিমাণও বেড়ে যাবে।

১৯৮৯ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ ভালো মৌলভিত্তির শেয়ার হিসেবে এ শ্রেণিভুক্ত। দেশের বিস্কুট ও কনফেকশনারি পণ্যের বাজারের বড় অংশ রয়েছে কোম্পানিটির দখলে। বাজারে থাকা কোম্পানিটির পণ্যভান্ডারে রয়েছে এনার্জি, নাটি, টিপ, লেক্সাসসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিস্কুট ও অলিম্পিক ব্র্যান্ডের ব্যাটারি।

আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের উল্লেখযোগ্য পরিমাণে শেয়ার কেনার ঘোষণায় আজ ঢাকার বাজারে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারের লেনদেনও বেড়েছে। বেলা ১১টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঢাকার বাজারে কোম্পানিটি লেনদেনের শীর্ষে ছিল। এ সময় পর্যন্ত কোম্পানিটির প্রায় সোয়া ৯ কোটি টাকার শেয়ারের হাতবদল হয়। আর প্রতিটি শেয়ারের দাম ১ টাকার মতো বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৪ টাকায়।