শেয়ারধারীদের ৬ কোটি টাকা মুনাফা দেবে সেনা ইনস্যুরেন্স

বিমাপ্রতীকী ছবি

গত বছরের জন্য শেয়ারধারীদের ৬ কোটি টাকা মুনাফা দেবে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বিমা কোম্পানি সেনা ইনস্যুরেন্স। এ জন্য কোম্পানিটি ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে আজ মঙ্গলবার দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কোম্পানিটি লভ্যাংশের এই তথ্য বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছে। গত ডিসেম্বরে কোম্পানিটির আরেকটি আর্থিক বছর শেষ হয়েছে। সেই আর্থিক বছরের আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য পর্যালোচনা করে লভ্যাংশের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ।

কোম্পানিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছর শেষে সেনা ইনস্যুরেন্স মুনাফা করেছে প্রায় ২১ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে কোম্পানটি মুনাফা করেছিল ১৭ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা ৪ কোটি টাকা বা প্রায় সাড়ে ২৩ শতাংশ বেড়েছে। কোম্পানিটি গত বছর ২১ কোটি টাকা মুনাফা করলেও সেই মুনাফা থেকে শেয়ারধারীদের মধ্যে লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ করবে ৬ কোটি টাকা। মুনাফার বাকি অর্থ নিয়ম অনুযায়ী অবণ্টিত মুনাফা হিসেবে কোম্পানির রিটেইনড আর্নিংস হিসেবে জমা থাকবে। রিটেইনড আর্নিংসের সেই অর্থ পরবর্তী সময়ে কোম্পানি তার ব্যবসায়িক প্রয়োজন অনুযায়ী খরচ করবে।

এদিকে লভ্যাংশ ঘোষণা ও মুনাফা বৃদ্ধির খবরেও আজ মঙ্গলবার দিনের শুরুতে কোম্পানিটির শেয়ারের দরপতন হয়েছে। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ লেনদেনের প্রথম দেড় ঘণ্টায় ১ টাকা ২০ পয়সা বা ২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৫৯ টাকায়। এ সময়ের মধ্যে কোম্পানিটির প্রায় সাড়ে ৩ লাখ শেয়ারের হাতবদল হয়।

সেনা ইনস্যুরেন্স ২০২১ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। তালিকাভুক্তির পর দুই বছর ধরে কোম্পানিটি শেয়ারধারীদের সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ হারে লভ্যাংশ দিয়েছে। ২০২৪ সালের জন্যও কোম্পানিটি শেয়ারধারীদের ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। তাতে প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে কোম্পানিটির একেকজন বিনিয়োগকারী পেয়েছেন দেড় টাকা লভ্যাংশ।

গত বছরের জন্য ঘোষিত লভ্যাংশ বাবদ কোম্পানিটি যে অর্থ বিতরণ করবে তার মধ্যে ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা পাবেন কোম্পানিটির উদ্যোক্তা–পরিচালকেরা। কারণ, সর্বশেষ গত জানুয়ারির হিসাবে কোম্পানিটির ৬০ শতাংশ শেয়ারই তাঁদের মালিকানায় রয়েছে। ব্যক্তি শ্রেণির সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে প্রায় ২৮ শতাংশ শেয়ার। তাতে ঘোষিত লভ্যাংশ বাবদ সাধারণ বিনিয়োগকারীরা পাবেন ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে থাকা ১২ শতাংশ শেয়ারের বিপরীতে লভ্যাংশ বাবদ তারা পাবেন ৭২ লাখ টাকা।