দেশীয় ব্যাংক হিসেবে ২,২৫০ কোটি টাকার রেকর্ড মুনাফা ব্র্যাক ব্যাংকের
বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর মধ্যে নিট মুনাফায় রেকর্ড করেছে বেসরকারি খাতের ব্র্যাক ব্যাংক। বিদায়ী বছরে ব্যাংকটি সমন্বিতভাবে (সহযোগী প্রতিষ্ঠানসহ) ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকার রেকর্ড মুনাফা করেছে। বাংলাদেশি ব্যাংক হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংকের মুনাফা প্রথমবারের মতো দুই হাজার কোটি টাকা ছাড়াল। দেশের আর কোনো ব্যাংক এত মুনাফা করতে পারেনি।
আজ রোববার ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় গত বছরের আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়। সভা শেষে ব্যাংকটি তাদের রেকর্ড মুনাফার এ তথ্য জানিয়েছে। একই সভায় গত বছরের জন্য শেয়ারধারীদের ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ব্র্যাক ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে ব্যাংকটি ১ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছিল। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির মুনাফা বেড়েছে ৮১৯ কোটি টাকা বা ৫৭ শতাংশ।
ব্যাংকটি জানিয়েছে, এককভাবে ব্র্যাক ব্যাংক গত বছর মুনাফা করেছে ১ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা। আগের বছর যার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২১৪ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির একক মুনাফা বেড়েছে ৩৬৭ কোটি টাকা বা ৩০ শতাংশের বেশি। আর সহযোগী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে এই মুনাফা ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। রেকর্ড মুনাফার বছর শেষে ব্যাংকটি গত বছরের জন্য শেয়ারধারীদের ১৫ শতাংশ নগদ এবং ১৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২৪ সালে ব্যাংকটি শেয়ারধারীদের সাড়ে ১২ শতাংশ নগদ ও সাড়ে ১২ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ মিলিয়ে মোট ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল।
রেকর্ড মুনাফার বিষয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, মূল্যবোধভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংক বাজার পরিস্থিতি যেমনই হোক, সব সময় শক্তিশালী সুশাসন ও মজবুত ভিত্তি বজায় রাখে। এর ফলে বছরের পর বছর ব্র্যাক ব্যাংক ধারাবাহিক আর্থিক সাফল্য অর্জন করেছে। আর মুনাফা এসেছে স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবে। এই সাফল্য গ্রাহকদের ধারাবাহিক আস্থা, সুশাসন ও বিচক্ষণ পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনার প্রতিফলন। প্রতিকূল বাজার পরিস্থিতিতেও ব্র্যাক ব্যাংক মুনাফার এই সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
ব্যাংকের মুনাফার একটি বড় অংশ বিশ্বের বৃহত্তম এনজিও ব্র্যাকের কাছে যায়, যা দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ব্যয় করে। এভাবেই বাংলাদেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্র্যাক ব্যাংক সব সময় অবদান রেখে চলেছে বলে ব্যাংকটি জানায়।