তিন মাসে ২৪১ কোটি টাকার মুনাফা সিটি ব্যাংকের

সিটি ব্যাংক

গত বছরের রেকর্ড মুনাফার ধারা বজায় রাখতে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেও মুনাফার উচ্চ প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে দেশের বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় সিটি ব্যাংক। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ব্যাংকটি ২৪১কোটি টাকা মুনাফা করেছে। গত বছরের প্রথম তিন মাসে ব্যাংকটি মুনাফা করেছিল ৯২কোটি টাকা। সেই হিসাবে গত বছরের প্রথম তিন মাসের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে ব্যাংকটির মুনাফা বেড়ে প্রায় তিন গুণ হয়েছে।

ব্যাংকটির চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি–মার্চ) আর্থিক প্রতিবেদন থেকে মুনাফার এ তথ্য পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার আর্থিক প্রতিবেদনের এ তথ্য বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছে ব্যাংকটি। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এ তথ্য বিনিয়োগকারীদের জানানো হয়।

আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চে সিটি ব্যাংক ঋণের সুদ থেকে আয় করেছে ১ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এই খাত থেকে ব্যাংকটি আয় করেছিল ১ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। সেই হিসাবে ঋণের সুদ বাবদ আয় এক বছরের ব্যবধানে ৫৮ কোটি টাকা বেড়েছে। ঋণের সুদ বাবদ আয় যতটা বেড়েছে, আমানতের সুদ বাবদ ব্যয় বেড়েছে তার চেয়ে বেশি। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ব্যাংকটি আমানতের সুদ বাবদ ব্যয় করেছে ১ হাজার ২৭১ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এই খাতে ব্যাংকটির ব্যয় ছিল ১ হাজার ১১৬ কোটি টাকা। সেই হিসাবে আমানতের সুদ বাবদ ব্যাংকটির ব্যয় এক বছরের ব্যবধানে ১৫৫ কোটি টাকা বেড়েছে। তাতে চলতি বছরের জানুয়ারি–মার্চে সুদ বাবদ আয় কমে দাঁড়িয়েছে ৬৩ কোটি টাকায়। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১৫৮ কোটি টাকা।

সুদ বাবদ আয় কমলেও সরকারি বিল–বন্ড ও বিভিন্ন মাশুল বাবদ আয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংকটির মুনাফায়ও বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ব্যাংকটি বিল–বন্ডের বিনিয়োগ থেকে আয় করেছে ১ হাজার ১৫ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৬০৪ কোটি টাকা। এ ছাড়া গত জানুয়ারি–মার্চে বিভিন্ন মাশুল বাবদ ব্যাংকটি আয় করেছে ২৫৩ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১৯৩ কোটি টাকা।