এরপর কয়েক দিন বাদ দিলে একটানা বেড়েছে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম। এ মূল্যবৃদ্ধিকে অস্বাভাবিক বলছেন বাজার–সংশ্লিষ্টরা। তাঁরা বলছেন, এভাবে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বাড়লেও নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে তদন্তের কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয়নি। এ কারণে কারসাজিকারীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছেন।

অক্টোবর থেকে টানা দাম বাড়তে শুরু করলেও এর পেছনে মূল্য সংবেদনশীল কোনো তথ্য ছিল না। ১২ অক্টোবরে এসে কোম্পানিটি গত জুনে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। এর আগেই কোম্পানিটির শেয়ারের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ১৫০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে যায়।

এরপর ১৩ অক্টোবর এসে কোম্পানিটি গত জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে কোম্পানিটি জানায়, উল্লিখিত প্রান্তিকে তাদের মুনাফায় বড় ধরনের উল্লম্ফন হয়েছে। তাতে আরেক দফা বাড়তে শুরু করে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম।

ডিএসইতে গতকাল কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ছয়ে উঠে আসে। এদিন এককভাবে কোম্পানিটির প্রায় ১২ কোটি টাকার শেয়ারের হাতবদল হয়। আর দাম বেড়েছে প্রায় ৫ শতাংশ বা ৮ টাকা ৩০ পয়সা।

বাজার–সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএসইসির পক্ষ থেকে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হলে কোম্পানিটির শেয়ারের বড় ধরনের কারসাজির প্রমাণ মিলবে। আরও আগে এ উদ্যোগ নেওয়া দরকার ছিল। তাহলে দামের উল্লম্ফন দেখে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কোম্পানিটির শেয়ারে খুব বেশি আকৃষ্ট হতেন না।

এদিকে কোম্পানিটির সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের হিসাবে এটির মূল্য আয় অনুপাত বা পিই রেশিও দাঁড়িয়েছে ৩০০-এর ওপরে। সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পিই রেশিও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬-এ।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, যে কোম্পানির পিই রেশিও যত বেশি সেই কোম্পানি বিনিয়োগের জন্য তত বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তাই কোম্পানির শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সমান্তরালভাবে আয় না বাড়লে ওই শেয়ারে বিনিয়োগের ঝুঁকি বাড়তে থাকে।