সাত মাসের ব্যবধানে ডিএসইতে সর্বনিম্ন লেনদেন
টানা দরপতনে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন এবার প্রায় আড়াই শ কোটি টাকার ঘরে নেমে এসেছে। গতকাল বুধবার দিন শেষে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২৬৩ কোটি টাকা, যা গত সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।
এর আগে চলতি বছরের ২৪ মার্চ সর্বশেষ ডিএসইতে সর্বনিম্ন প্রায় ২৫৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। এরপর গতকাল আবারও লেনদেন সেই সাত মাস আগের অবস্থানে ফিরে যায়।
এদিকে টানা দরপতনের ধারা গতকালও অব্যাহত ছিল বাজারে। এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স প্রায় ১০ পয়েন্ট কমে নেমে এসেছে ৪ হাজার ৫৭৯ পয়েন্টে।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচকটি এদিন প্রায় ৩৩ পয়েন্ট কমে নেমে এসেছে ১৩ হাজার ৯৯৪ পয়েন্টে। দিন শেষে সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২২ কোটি টাকার কিছু বেশি।
জুনের আর্থিক বছর শেষে তালিকাভুক্ত বেশ কিছু কোম্পানি শেয়ারধারীদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। কিন্তু মন্দাবাজারে এসব মূল্য সংবেদনশীল তথ্যের তেমন কোনো প্রভাব শেয়ারের দামে দেখা যাচ্ছে না।
বস্ত্র খাতের কোম্পানি মালেক স্পিনিং শেয়ারধারীদের জন্য ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের ঘোষণা দিয়েছে। আগের বছর এ লভ্যাংশের পরিমাণ ছিল ১০ শতাংশ। তা সত্ত্বেও গতকাল বাজারে কোম্পানিটির শেয়ারের দামে এর কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। তালিকাভুক্ত অপর কোম্পানি এএমসিএল (প্রাণ) গত জুনে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ৩২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের ঘোষণা দিয়েছে। আগের বছরও কোম্পানি সমপরিমাণ লভ্যাংশ দিয়েছিল। তবে এ বছর কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস গতবারের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। তা সত্ত্বেও গতকাল ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বা সাড়ে ৫ টাকা কমে গেছে।
বাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজার যখন নিম্নমুখী ধারায় থাকে, তখন মূল্য সংবেদনশীল তথ্যও অনেক ক্ষেত্রে শেয়ারের দামে কোনো প্রভাব ফেলে না।
ঢাকার বাজারে গতকাল লেনদেন হওয়া ৩১৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪৭টিরই দাম কমেছে, বেড়েছে ১২৩টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৪৫টির দাম। সিএসইতে এদিন লেনদেন হওয়া ২৩৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২০টিরই দাম কমেছে, বেড়েছে ৮০টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৩৫টির দাম।