বিদ্যুৎ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি মানুষের ওপর চাপ বাড়াবে: সিপিডি

‘২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ অর্থনীতি: উত্তরণকালীন সময়ে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ’ বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান ও নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও তীব্র হয়েছে। গতকাল নতুন করে বেড়েছে বিদ্যুতের দাম। ফলে সাধারণ মানুষের পরিবারের খরচ চালানো আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে ‘২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ অর্থনীতি: উত্তরণকালীন সময়ে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ’ বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ফাহমিদা খাতুন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট সামনে রেখে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সিপিডি।

সংবাদ সম্মেলনে ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। দেশের অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতা ও বৈশ্বিক নানা ধাক্কার কারণে অর্থনীতি এখনো বেশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দেশের অর্থনীতির চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো উচ্চ মূল্যস্ফীতি।

গত এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে জানিয়ে ফাহমিদা খাতুন বলেন, মূলত জ্বালানি, পরিবহন ও সেবা খাতের খরচ বৃদ্ধির কারণেই মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির তুলনায় মজুরি বৃদ্ধির হার কম। ফলে সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে সীমিত ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।

সিপিডির পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মে মাসের মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এই সময়ে ডিজেলের দাম ১৫ শতাংশ; পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম প্রায় ২০ শতাংশের মতো বেড়েছে। জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব দ্রুত পরিবহন খাতেও পড়ে। ফলে বাসভাড়া বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশজুড়ে পণ্য পরিবহন খরচ বেড়ে যায়।

জ্বালানি তেলের পাশাপাশি রান্নার গ্যাসের দামও একলাফে অনেক বেড়েছে বলে জানায় সিপিডি। সংস্থাটি বলেছে, গত মার্চ মাসে ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৩৪১ টাকা। এই দাম ৪০ শতাংশের বেশি বেড়ে জুনে এসে হয়েছে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা।

জ্বালানি খরচের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার ব্যবস্থাপনায় ও সরবরাহ শৃঙ্খলের দুর্বলতাকেও মূল্যস্ফীতির আরেকটি বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সিপিডি। এ বিষয়ে ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের একাধিক স্তর থাকার কারণে প্রায়ই খুচরা পর্যায়ে পণ্যের দাম অনেক বেড়ে যায়। ফলে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার এই সময়ে সাধারণ ভোক্তারা আরও বেশি অসহায় হয়ে পড়েন।

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী হেলেন মাশিয়াত বলেন, দেশে জ্বালানির দাম দ্বিতীয় দফায় বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল না। কারণ, তখন ইতিমধ্যে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমতে শুরু করেছিল। আর সাধারণ মানুষ, তথা যাঁরা কম পরিমাণে বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে দাম না বাড়িয়ে, যাঁরা বেশি পরিমাণে বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে দাম বাড়ানো যেতে পারে।