৫ লাখ টাকার ডিজিটাল ঋণ দেবে ব্র্যাক ব্যাংক, আবেদন করবেন কীভাবে

ব্র্যাক ব্যাংকছবি: সংগৃহীত

জরুরি প্রয়োজনে নগদ টাকার জোগানে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ডিজিটাল ঋণ দিচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক। এ ঋণ পেতে ব্যাংকের শাখায় যেতে হবে না। এমনকি ঋণ প্রক্রিয়াকরণের জন্য কোনো সহায়ক নথি, জামিনদার বা চেকও জমা দিতে হবে না। যোগ্য গ্রাহকেরা অনলাইনে আবেদন করে কয়েক মিনিটের মধ্যে ঋণ অনুমোদনের সিদ্ধান্ত জানতে পারবেন।

ব্র্যাক ব্যাংকের এ ঋণের নাম ‘ইনস্ট্যান্ট লোন’। হাসপাতালে ভর্তি, বিয়ে, বাসাবাড়ি সংস্কার কিংবা ভ্রমণকালীন জরুরি অর্থের প্রয়োজনে এ ঋণ নেওয়া যাবে। ঋণ পরিশোধের জন্য গ্রাহকেরা ৩ থেকে ৬০ মাস পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদ বেছে নিতে পারবেন। মাসিক সমান কিস্তিতে (ইএমআই) ঋণের টাকা পরিশোধ করতে হবে।

কারা পাবেন

ব্র্যাক ব্যাংকের ইনস্ট্যান্ট লোন পেতে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ২১ বছর এবং সর্বোচ্চ ৬২ বছর হতে হবে। ব্র্যাক ব্যাংকে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেতন হিসাবধারীরা (স্যালারি অ্যাকাউন্টধারী) এ ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তাঁদের মাসিক বেতন হতে হবে কমপক্ষে ১৫ হাজার টাকা। পাশাপাশি বর্তমান প্রতিষ্ঠানে অন্তত তিন মাসের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

এ ছাড়া ব্যাংকের পণ্যের নীতিমালা অনুযায়ী নির্বাচিত চলতি হিসাব (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট), সঞ্চয়ী হিসাব (সেভিংস অ্যাকাউন্ট) গ্রাহকের পাশাপাশি স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ও মাসিক সঞ্চয় কর্মসূচির (ডিপিএস) গ্রাহকেরাও এ ঋণের জন্য যোগ্য হতে পারেন। তবে সব গ্রাহক স্বয়ংক্রিয়ভাবে এ ঋণ পাবেন না।

কত টাকা পাবেন

এ ঋণের সর্বোচ্চ সীমা পাঁচ লাখ টাকা। গ্রাহকের প্রয়োজন ও অনুমোদিত ঋণের পরিমাণ অনুযায়ী ঋণ নেওয়া যাবে। পরিশোধের মেয়াদ হবে ৩ বা ৬ মাস থেকে ৬০ মাস পর্যন্ত। ঋণের সুদের হার পরিবর্তনশীল। বাংলাদেশ ব্যাংকের সুদহার-সংক্রান্ত নির্দেশনা এবং ব্র্যাক ব্যাংকের প্রচলিত সুদহারের ভিত্তিতে তা নির্ধারিত হবে। এ ছাড়া রিটেইল বা খুচরা ঋণের জন্য ব্যাংকের নির্ধারিত শিডিউল অব চার্জেস (এসওসি) অনুযায়ী প্রযোজ্য মাশুল দিতে হবে।

আবেদন করবেন যেভাবে

এ ঋণের জন্য ব্যাংকের শাখায় যাওয়া কিংবা ব্যাংক প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করার প্রয়োজন নেই। যোগ্য গ্রাহকদের ব্যাংকের পাঠানো আমন্ত্রণমূলক এসএমএসের নির্দেশনা অনুসরণ করে আবেদন করতে হবে। ঋণ প্রক্রিয়াকরণের জন্য আলাদা কোনো সহায়ক নথি, জামিনদার বা চেক জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

ব্যাংকের অফিস সময়ে আবেদন করলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঋণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। ছুটির দিন কিংবা অফিস সময়ের বাইরে আবেদন করলে পরবর্তী কার্যদিবসে তা প্রক্রিয়া করা হবে। ঋণ অনুমোদনের পর দুই মাসের মধ্যে ঋণের টাকা নিতে হবে গ্রাহককে। দুই মাস পরে অনুমোদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।

ঋণ নেওয়ার আগে

ঋণের সুদের হার পরিবর্তনশীল হওয়ায় আবেদন করার আগে প্রযোজ্য সুদের হার, প্রসেসিং ফি, অন্যান্য চার্জ এবং মাসিক কিস্তির পরিমাণ জেনে নেওয়া উচিত। ঋণের মেয়াদ যত বেশি হবে, সাধারণত মোট সুদের ব্যয়ও তত বাড়তে পারে। তাই নিজের মাসিক আয় ও নিয়মিত ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঋণের পরিমাণ ও পরিশোধের মেয়াদ নির্বাচন করা প্রয়োজন।