মাসে ১৮,৪৮৪ টাকা জমিয়ে ১২ বছরে পাওয়া যাবে ৫০ লাখ টাকা
এসেছে নতুন বছর। যাঁরা আগে থেকেই সঞ্চয় করছেন, তাঁরা আরও বেশি সঞ্চয় করার পরিকল্পনা করতে পারেন। আবার যাঁরা আগে সঞ্চয় করেননি, তাঁরা নতুন বছরে সঞ্চয় শুরু করতে পারেন।
বাস্তবতা হলো, গত কয়েক বছরে যেভাবে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, তাতে সঞ্চয় করা কঠিন হয়েছে ঠিক। কিন্তু একই সঙ্গে বড় অঙ্কের সঞ্চয়ের প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি হয়েছে। বড় অঙ্কের সঞ্চয় করতে গেলে সীমিত আয়ের মানুষের কষ্ট হবে। কিন্তু মেয়াদ শেষে যখন বড় অঙ্কের টাকার মুখ দেখা যায়, তখন কার না ভালো লাগে।
ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) আছে এমন ডিপিএস। ব্যাংকটির ওয়েবসাইটের তথ্যানুসারে, এই ডিপিএসে মাসে ১৮ হাজার ৪৮৪ টাকা জমালে ১২ বছর শেষে পাওয়া যাবে ৫০ লাখ টাকা।
‘ইউসিবি মাল্টি মিলিয়নিয়ার’ শীর্ষক এই ডিপিএসের মেয়াদ ৭ থেকে ১২ বছর। এ মেয়াদের মধ্যে ডিপিএসের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মাসিক কিস্তি ৪১ হাজার ৬৬৩ টাকা ও ১৮ হাজার ৪৮৪ টাকা।
অর্থাৎ ৭ বছরের মেয়াদে কেউ ৫০ লাখ টাকার মালিক হতে চাইলে প্রতি মাসে কিস্তি দিতে হবে ৪১ হাজার ৬৬৩ টাকা। ৮ বছর মেয়াদে কিস্তি দিতে হবে ৩৪ হাজার ৫৬৩ টাকা। ৯ বছর মেয়াদে কিস্তি দিতে হবে ২৯ হাজার ১০৭ টাকা। ১০ বছর মেয়াদে কিস্তি দিতে হবে ২৪ হাজার ৮০১ টাকা। ১১ বছর মেয়াদে কিস্তি দিতে হবে ২১ হাজার ৩৩০ টাকা এবং ১২ বছর মেয়াদে কিস্তি দিতে হবে ১৮ হাজার ৪৮৪ টাকা।
কী কাগজপত্র লাগে
যেকোনো ধরনের ব্যাংক হিসাব খুলতে কিছু সাধারণ কাগজপত্র জমা দিতে হয়। এই ডিপিএস খোলা হলেও একই ধরনের কাগজপত্র লাগবে। নিচে এর একটি তালিকা দেওয়া হলো—
১. আবেদনকারীর পরিচয়পত্র: জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্ট কার্ডের ফটোকপি দিতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে জন্মনিবন্ধন সনদের ফটোকপি এবং পাশাপাশি ছবিসহ অন্য যেকোনো পরিচয়পত্র (যেমন পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র) জমা দিতে হবে।
২. আবেদনকারীর সদ্য তোলা ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।
৩. নমিনির কাগজপত্র। যেমন নমিনির সদ্য তোলা ১ কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি (আবেদনকারী কর্তৃক সত্যায়িত), নমিনির জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদের ফটোকপি।
৩. ঠিকানা প্রমাণপত্র হিসেবে আপনার বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল বা পানির বিলের ফটোকপি।
৪. কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) থাকলে এর ফটোকপি জমা দিতে পারেন।
নিয়ম কী
১. প্রতি মাসের নির্ধারিত সময়ে, অর্থাৎ ডিপিএস হিসাব খোলার তারিখে কিস্তির টাকা জমা দিতে হবে।
২. সংযুক্ত হিসাব থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিস্তি স্থানান্তরের সুবিধা রয়েছে। তাই লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই।
৩. নির্ধারিত তারিখের পর অতিরিক্ত জরিমানা ছাড়াই ৭ দিনের গ্রেস পিরিয়ডে কিস্তি পরিশোধ করা যায়।
৪. নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কিস্তি পরিশোধ না হলে বকেয়া টাকার ওপর প্রযোজ্য সুদের হার অনুযায়ী জরিমানা আরোপ করা হবে।
৫. ডিপিএস ভাঙানো ছাড়াই জরুরি আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে জমার সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণসুবিধা নেওয়া যাবে।
৬. মাসিক কিস্তি সঠিকভাবে ও সময়মতো পরিশোধ করা হলে এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর ঋণ পাওয়া যাবে।
৭. সুদের ওপর আয়কর ও আবগারি শুল্ক প্রযোজ্য হবে।
৮. ডিপিএস হিসাব খোলার জন্য ইউসিবিতে চলতি বা সঞ্চয়ী হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক।
সতর্কতা
বাজারে বিভিন্ন ব্যাংক নানা ধরনের সঞ্চয় অফার দেয়। তাই সঞ্চয় করার আগে ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ধরনের বৈশিষ্ট্য দেখে সঞ্চয় বা বিনিয়োগে যাওয়া উচিত। তা হলে দুর্বল ব্যাংকে বিনিয়োগ করলে বিপাকে পড়তে পারেন গ্রাহক।
এ ছাড়া সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে যে বিষয়টি প্রথমে মাথায় রাখা উচিত, সেটা হলো, খরচের আগেই আয় থেকে সঞ্চয় আলাদা করা। অর্থাৎ ব্যয়ের পর আপনি সঞ্চয় করবেন তা নয়; বরং আগে ঠিক করুন, কত টাকা সঞ্চয় করবেন—এরপর ব্যয় করুন। টাকা জমানোর পাশাপাশি বুঝেশুনে কিছু বিনিয়োগও করা যেতে পারে। সঞ্চয়ের পরিমাণ অল্প হলেও নিয়মিত সঞ্চয় করুন। আয় বাড়াতে না পারলে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে সঞ্চয়ের পরিমাণ বাড়ান।
এই চর্চা নিয়মিত করলে একসময় দেখা যাবে, সাধ্যের মধ্যেও প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব।