নোয়াখালী অঞ্চলের উন্নয়নে ২৫০০ কোটি টাকার বন্ড আসছে, কিনবেন কীভাবে
বাংলাদেশ সরকার আবারও সুকুক বন্ড ছেড়ে বাজার থেকে টাকা তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ৭ম বিনিয়োগ সুকুক বন্ড। এবার বাজার থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে; যা খরচ হবে নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর পল্লি এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নে।
এই বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারেন আপনিও। সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে আপনিও সরকারের সুকুক বন্ডের অংশীদার হতে পারেন। এতে মিলবে উচ্চ মুনাফাও।
যেভাবে বিনিয়োগ করবেন
বর্তমানে ব্যাংক, পুঁজিবাজার, ব্রোকারেজ হাউস ও বিনিয়োগ ব্যাংক থেকে বন্ডে কেনার সুযোগ রয়েছে। তবে সব ব্যাংক এই সেবা দেয় না। শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকই ট্রেজারি বন্ড বিক্রি করে। পাশাপাশি সহযোগী কিছু ব্যাংকও এই সেবা দিয়ে থাকে।
তাই বিনিয়োগের আগে খোঁজ নিতে হবে, যে ব্যাংকে আপনার হিসাব রয়েছে, ওই ব্যাংক ট্রেজারি পণ্য বিক্রি করে কি না। যদি না করে, তাহলে যে ব্যাংক ট্রেজারি পণ্য বিক্রি করে, সেই ব্যাংকে হিসাব খুলে কিনতে হবে। মূলত ট্রেজারি ব্যাংকের মাধ্যমে কিনতে আপনার নামে বিপি হিসাব খুলতে হবে। দেশে ট্রেজারি ব্যাংক রয়েছে ২৪টি। এর মাধ্যমে বিল ও বন্ড দুটিই কেনা যায়।
যাঁরা আবেদন করবেন, তাঁরা সবাই বন্ড পাবেন। তবে আবেদনের পুরোটা নয়। আনুপাতিক ভিত্তিতে বন্ড পাবেন আবেদনকারীরা। নিলামে অংশগ্রহণের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ ফেব্রুয়ারি ১০টা থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি বেলা আড়াইটা পর্যন্ত।
মুনাফা কত
এই সুকুক বন্ড ৭ বছর মেয়াদি। মুনাফা মিলবে ৬ মাস পরপর। এ ছাড়া রয়েছে পুরোপুরি কর রেয়াতের সুবিধা। সম্ভাব্য মুনাফার হার ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ। ফলে মুনাফা যা মিলবে, পুরোটাই আবেদনকারীরা পাবেন।
প্রচলিত সঞ্চয়পত্রের তুলনায় সুকুকের গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ভিন্ন হওয়ায় এটি শরিয়াহ–সম্মত বিনিয়োগকারীদের জন্য যেমন আদর্শ, তেমনি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ঝুঁকিহীন বিনিয়োগের সুযোগ, যা সরাসরি রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি দ্বারা সুরক্ষিত।
সুকুকটি ইজারাভিত্তিক কেন
ইজারা সুকুক হলো একটি ‘ইসলামি বিনিয়োগ সার্টিফিকেট’; যা মূলত ভাড়ার চুক্তির ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। সাধারণ বন্ডে যেখানে সুদের কারবার থাকে, সেখানে সুকুক হলো শরিয়াহ–সম্মত একটি পদ্ধতি, যেখানে আপনি কোনো নির্দিষ্ট সম্পদের আংশিক মালিকানা লাভ করেন এবং সেই সম্পদ থেকে আসা ভাড়া বা মুনাফা ভোগ করেন।
সরকার অবকাঠামো তৈরি করবে, কিন্তু তাদের কাছে পর্যাপ্ত টাকা নেই। তখন তারা ‘ইজারা সুকুক’ ছাড়ে। প্রক্রিয়াটি হলো সরকার বা কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের একটি নির্দিষ্ট সম্পদ একটি ট্রাস্টি বা বিশেষ প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করে। আপনি বা আপনার মতো বিনিয়োগকারীরা সেই সুকুক সার্টিফিকেট কেনেন; অর্থাৎ আপনারা সবাই মিলে ওই সম্পদের মালিকানা কিনলেন।
সরকার বা ওই প্রতিষ্ঠান এখন আপনার কেনা সেই সম্পদ আপনার কাছ থেকেই ভাড়া নেয়। এই ভাড়ার টাকা সুকুকধারীদের মধ্যে তাঁদের বিনিয়োগের অনুপাত অনুযায়ী বণ্টন করা হয়। এটাই আপনার মুনাফা। চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে সরকার সম্পদটি আপনার কাছ থেকে কিনে নেয় এবং আপনার আসল টাকা ফেরত দেয়। ফলে এতে কোনো সুদের কারবার নেই।