বিনিয়োগের বিকল্প খাত হতে পারে সুকুক, কী কী লাগে

টাকাফাইল ছবি

সাধারণ মানুষ কষ্টের সঞ্চয়ের টাকা নিরাপদ জায়গায় বিনিয়োগ করতে চান। সে ক্ষেত্রে সঞ্চয়পত্র, এফডিআর, বন্ডের পাশাপাশি সুকুক হতে পারে নতুন বিকল্প। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক সাধারণ গ্রাহকদের কাছে সুকুককে আকর্ষণীয় করতে চায়।

বিনিয়োগপণ্য সুকুকে সাধারণ মানুষ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ বাড়াতে প্রক্রিয়া সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে বিনিয়োগকারীরা নির্দিষ্ট মাশুল এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সহজেই সুকুক ইনভেস্টর আইডি বা বিনিয়োগকারী আইডি খুলতে পারবেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নতুন নির্দেশনা ও মাশুলের বিষয়টি জানিয়েছে। এ ছাড়া জানানো হয়েছে সুকুকে বিনিয়োগ হিসাব খুলতে কী নথিপত্র প্রয়োজন। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গিয়ে এই হিসাব খুলতে হবে।

আইডি খুলতে যা লাগে

সুকুক ইনভেস্টর আইডি বা বিনিয়োগকারী আইডি খুলতে নানা ধরনের কাগজপত্র লাগে। যেমন—

ব্যক্তি বিনিয়োগকারীর জন্য—

১. আবেদন ফরম

২. ব্যাংক হিসাবের তথ্য

৩. জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট

৪. ছবি

৫. টিআইএন (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

৬. যোগাযোগের তথ্য।

৭. নমিনির ছবি ও তথ্য। যেমন—নমিনির জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট বা জন্মনিবন্ধন সনদ

অনিবাসী বা বিদেশি ব্যক্তি বিনিয়োগকারীর জন্য—

১. আবেদন ফরম

২. বিনিয়োগকারীর হিসাবের তথ্য

৩. ছবি ও পাসপোর্ট

৪. টিআইএন বা কর সনদ

৫. যোগাযোগের তথ্য। নমিনির ছবি, পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন সনদ

ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, লিমিটেড কোম্পানির জন্য—

১. আবেদন ফরম

২. ব্যাংক হিসাবের তথ্য

৩. নিবন্ধন ফরম

৪. সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লাইসেন্স (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

৫. মেমোরেন্ডাম ও আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন

৬. বোর্ড রেজোল্যুশন

৭. টিআইএন সনদ

৮. নিবন্ধিত ঠিকানা

৭. সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগের বিস্তারিত তথ্য

৮. অনুমোদিত স্বাক্ষরকারীর ছবি ও পরিচয়পত্র

পেনশন, প্রভিডেন্ট, গ্রাচুইটি, মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য—

১. আবেদন ফরম

২. ব্যাংক হিসাবের তথ্য

৩. নিবন্ধন বা অনুমোদন সনদ

৪. ট্রাস্ট ডিড (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

৫. বোর্ড অব ট্রাস্টিজের রেজোল্যুশন বা সভার কার্যবিবরণী

৬. এনবিআরের সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

৭. অনুমোদিত স্বাক্ষরকারীর যোগাযোগের তথ্য

৮. অনুমোদিত স্বাক্ষরকারীর ছবি ও এনআইডি

একক মালিকানা বা অংশীদারি কারবারের জন্য—

১. আবেদন ফরম

২. ব্যাংক হিসাবের তথ্য

৩. ট্রেড লাইসেন্স

৪. অংশীদারি দলিল (অংশীদারি কারবারের জন্য)

৫. টিআইএন

৬. মালিক বা অংশীদারদের জাতীয় পরিচয়পত্র

৭. মালিক বা অংশীদারদের যোগাযোগের তথ্য

৮. নমিনির ছবি ও তথ্য (একক মালিকানার জন্য)

৯. নমিনির জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট (একক মালিকানার জন্য)

অনিবাসী বা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য—

১. আবেদন ফরম

২. বিনিয়োগকারীর ব্যাংক হিসাবের তথ্য

৩. মেমোরেন্ডাম ও আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

৪. অংশীদারি দলিল—অংশীদারি কারবারের জন্য (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

৫. বোর্ড অব ট্রাস্টিজের রেজোল্যুশন বা সভার কার্যবিবরণী (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

৬. টিআইএন বা কর সনদ

৭. নিবন্ধিত ঠিকানা

মাশুল কত

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সুকুক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভ্যাটসহ মাশুল কাঠামো সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের জন্য আইডি খোলা, প্রাথমিক নিলামে অংশগ্রহণ ও বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ মাশুল—প্রতিটির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে এই মাশুল প্রতিটি ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা।

এ ছাড়া সেকেন্ডারি মার্কেটে প্রতি লেনদেনের জন্য ১০০ টাকা মাশুল দিতে হবে। বিনিয়োগকারীরা বছরে একটি আয়কর সনদ বিনা মূল্যে পাবেন, তবে এর অতিরিক্ত প্রতিটির জন্য ব্যক্তিপর্যায়ে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা এবং প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা মাশুল প্রযোজ্য হবে।

যেসব সেবা মিলবে বিনা মূল্যে

বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে বেশ কিছু সেবা সম্পূর্ণ মাশুলমুক্ত রাখা হয়েছে। মুনাফা, ভাড়া বা আসল পরিশোধের ক্ষেত্রে ব্যাংক কোনো মাশুল নিতে পারবে না। এ ছাড়া বিনিয়োগের পরিমাণ বা হোল্ডিং রিপোর্ট সংগ্রহ এবং সুকুক আইডি বন্ধ করার জন্য কোনো মাশুল দিতে হবে না।

আবেদনের প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় তথ্য

বিনিয়োগকারীদের সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ‘গভর্নমেন্ট সিকিউরিটিজ বিনিয়োগ উইন্ডো’-তে আবেদন করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত শরিয়াহ সিকিউরিটি মডিউলের মাধ্যমে এই আইডি খোলা হবে। ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের নির্ধারিত আবেদন ফরম, ব্যাংক হিসাবের তথ্য, জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট, ছবি, ই–টিআইএন (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) এবং নমিনির তথ্য ও ছবি জমা দিতে হবে।

বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি বা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে প্রবাসীদের দেশি মুদ্রা ‘টাকা হিসাব’–এর তথ্য দিতে হবে। প্রতিষ্ঠান, লিমিটেড কোম্পানি, ট্রাস্ট বা প্রভিডেন্ট ফান্ডের ক্ষেত্রে নিবন্ধন সনদ, পরিচালনা পর্ষদের কার্যবিবরণী এবং অনুমোদিত স্বাক্ষরকারীর প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে হবে।