কী কী সম্পদ থাকলে সারচার্জ দিতে হবে

ছবি: এআই ব্যবহার করে তৈরি

করদাতাদের বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাট, জমিজমাসহ বেশি সম্পদ থাকলে সারচার্জ দিতে হয়। মূলত ধনী–গরিবের মধ্যে বৈষম্য কমিয়ে সমাজে সাম্য সৃষ্টি করতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সারচার্জের হার ঠিক করে দেয়। পাশাপাশি কী ধরনের কত সম্পদ থাকলে সারচার্জ আরোপ করা হবে, তা–ও বলে দিয়েছে এনবিআর।

এবার জানা যাক, কী থাকলে সারচার্জ দিতে হবে। এই সারচার্জের হার কত, তা–ও জেনে নিই।

কী থাকলে সারচার্জ

মোটাদাগে তিন ধরনের উপায়ে সারচার্জ আরোপের বিষয়টি ঠিক করা হয়।

১. একজন করদাতার সম্পদের পরিমাণ অর্থাৎ বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লট, কৃষি ও অকৃষি জমিসহ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য যদি চার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়, তাহলে সারচার্জ দিতে হবে।

২. যদি নিজ নামে একের অধিক মোটর গাড়ি থাকে, তাহলেও সারচার্জ আরোপ হবে। বর্তমানে অনেকের নামে একাধিক গাড়ি থাকে। তবে অনেকে নিজ নামে গাড়ি দেখান না। নিজের প্রতিষ্ঠান বা স্ত্রী–সন্তানের নামে গাড়ি দেখান।

৩. কোনো করদাতার মোট আট হাজার বর্গফুটের অধিক আয়তনের গৃহসম্পত্তি থাকলেও সারচার্জ দিতে হবে।

এখানে মনে রাখতে হবে, ওপরের তিন ধরনের সম্পদের একটিও যদি কোনো করদাতার থাকে, তাহলে সারচার্জ দিতে হবে।

সারচার্জ বসে কীভাবে

করদাতা যত টাকা কর দেবেন, এই করের কমপক্ষে ১০ শতাংশ পরিমাণ সারচার্জ হিসেবে দিতে হবে। সম্পদ বাড়লে প্রদেয় করের ওপর সারচার্জের হারও বাড়বে। তবে কোনো করদাতার কোনো কারণে কর আরোপ না হয়, তাহলে ন্যূনতম সারচার্জ দিতে হয়।

সারচার্জ কত

একজন করদাতার নিট সম্পদের মূল্য চার কোটি টাকার কম হলে সারচার্জ দিতে হবে না। নিট সম্পদের মূল্য চার কোটি টাকার বেশি, কিন্তু ১০ কোটি টাকার কম, তাহলে ১০ শতাংশ হারে সারচার্জ বসবে।

নিট সম্পদের মূল্য ১০ কোটি টাকার বেশি, কিন্তু ২০ কোটি টাকার কম, তাহলে ২০ শতাংশ হারে সারচার্জ বসবে।

আর নিট সম্পদের মূল্য ২০ কোটি টাকার বেশি, কিন্তু ৫০ কোটি টাকার কম হলে ৩০ শতাংশ হারে সারচার্জ হবে। আর নিট সম্পদের মূল্য ৫০ কোটি টাকার বেশি প্রদেয় করের ৩৫ শতাংশ হারে সারচার্জ দিতে হবে।

সমস্যা কোথায়

আয়কর নথিতে একজন করদাতাকে বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লট, জমি, স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন সম্পদের অর্জনকালীন বা কেনা মূল্য দেখাতে হয়। সারচার্জ বাজারমূল্যে হিসাব করা হয় না। ফলে দুই থেকে তিন যুগ কোনো সম্পদের মূল্য বা প্লটের দাম এক লাখ টাকা হলে এখনো করনথিতে সেই দামই দেখাতে হবে। ফলে সারচার্জের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছেন অনেক সম্পদশালী করদাতা।