১০ লাখ টাকা প্রাথমিক জমা ও মাসে ১১,২৮৩ টাকা দিয়ে ১৫ বছরে কোটিপতি হন

সঞ্চয়কোলাজ: প্রথম আলো

একসময় মধ্যবিত্তের স্বপ্ন ছিল, শেষ জীবনে যদি কোটিপতি হওয়া যায়, তাহলে জীবনটা আরামে কাটানো যাবে। মূল্যস্ফীতির কারণে কোটিপতি হওয়ার সেই জৌলুশ আর নেই। কেননা, ঢাকা শহরে এখন ভালো মানের ফ্ল্যাটের দামই পড়ে কোটি টাকার ওপরে।

তারপরও মধ্যবিত্তের কাছে কোটি টাকা এখনো বড় বিষয়। সব খরচ মিটিয়ে মধ্যবিত্ত পরিবারের হাতে এক কোটি টাকা থাকলে শেষ জীবন এক রকম স্বাচ্ছন্দ্যে অতিবাহিত করা যায়।

মানুষের এই প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখেই দেশের বিভিন্ন ব্যাংক কোটিপতি স্কিম নিয়ে এসেছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ ব্যাংক ওয়ান ব্যাংকেরও আছে কোটিপতি স্কিম। এই স্কিমে টাকা জমিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ বছরে কোটিপতি হওয়া সম্ভব।

ওয়ান ব্যাংক কোটিপতি ডিপোজিট স্কিম

ওয়ান ব্যাংকের কোটিপতি ডিপোজিট স্কিমে দুই ধরনের ব্যবস্থা আছে। প্রথমত, গ্রাহক নির্দিষ্ট অঙ্কের প্রাথমিক অর্থ জমা দেওয়ার পাশাপাশি মাসিক কিস্তি দিয়ে মেয়াদ শেষে কোটিপতি হতে পারেন। আবার প্রাথমিক জমা ছাড়া শুধু মাসিক কিস্তি দিয়ে মেয়াদ শেষে কোটিপতি হওয়া যায়। সে ক্ষেত্রে মাসিক কিস্তির পরিমাণ কিছুটা বেশি।

ওয়ান ব্যাংক পিএলসির এই কোটিপতি স্কিমে বিনিয়োগ করতে হলে গ্রাহকের অবশ্যই ব্যাংকে সঞ্চয়ী হিসাব থাকতে হবে। ছবিসহ বৈধ পরিচয়পত্র থাকা যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিক এই স্কিমে অংশ নিতে পারবেন। আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ন্যূনতম ১৮ বছর।

নির্ধারিত মেয়াদ শেষে গ্রাহক পাবেন ১ কোটি টাকা। এই টাকার ওপর কর কর্তন করা হবে। গ্রাহক চাইলে একাধিক কোটিপতি স্কিম খুলতে পারেন। এই স্কিমে বিনিয়োগের মেয়াদ ৫ বছর থেকে শুরু করে ৮, ১০, ১২ ও ১৫ বছর।

মাসিক কিস্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সঞ্চয়ী হিসাব থেকে কেটে নেওয়া হবে। ফলে আলাদা করে ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার ঝামেলা নেই। পাশাপাশি জমাকৃত অর্থের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ বা ওভারড্রাফট সুবিধা পাওয়া যায়।

প্রাথমিক জমার পরিমাণ দুই লাখ, পাঁচ লাখ, সাত লাখ ও ১০ লাখ টাকা। ধরা যাক, কেউ সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা প্রাথমিক জমা দিয়েছেন। তিনি সর্বোচ্চ ১৫ বছর মেয়াদে কোটিপতি হতে চাইলে মাসিক কিস্তি দিতে হবে ১১ হাজার ২৮৩ টাকা। এ ক্ষেত্রে সুদের হার ১১ শতাংশ। প্রাথমিক জমাসহ স্কিমের ক্ষেত্রে সুদের হার ১০ থেকে সর্বোচ্চ ১১ শতাংশ। সর্বনিম্ন ২ লাখ টাকা প্রাথমিক জমা দিয়ে সর্বনিম্ন পাঁচ বছরের মেয়াদে কোটিপতি হতে চাইলে মাসে কিস্তি দিতে হবে ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৭৫ টাকা।

প্রাথমিক জমা ছাড়া সর্বোচ্চ ১৫ বছরে কোটিপতি হতে চাইলে মাসিক কিস্তি দিতে হবে ২২ হাজার ৪৯৪ টাকা। পাঁচ বছর মেয়াদে কোটিপতি হতে চাইলে কিস্তি দিতে হবে ১ লাখ ২৯ হাজার ৮০৪ টাকা। দেখে নেওয়া যাক, প্রাথমিক জমাসহ ও জমা ছাড়া কত বছরের মেয়াদে কত টাকা কিস্তি দিতে হবে:

গ্রাফিকস: প্রথম আলো
গ্রাফিকস: প্রথম আলো

কী লাগবে

হিসাব খুলতে সাধারণত যেসব কাগজপত্র লাগে, এ ক্ষেত্রেও তা–ই লাগবে। আপনার নিজের ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), নমিনির ছবি ও এনআইডি এবং ওই ব্যাংকে হিসাব আছে, এমন একজন পরিচয়দানকারী। গ্রাহকের ছবি সত্যায়ন করবেন পরিচয়দানকারী। নমিনির ছবি সত্যায়ন করবেন গ্রাহক। ফরমের নির্দিষ্ট স্থানে সবার স্বাক্ষর লাগবে। জরুরি প্রয়োজনে ব্যাংক যোগাযোগ করবে, এমন একজনের নাম–ঠিকানাও দিতে হবে।

সতর্কতা

বাজারে বিভিন্ন ব্যাংক নানা ধরনের সঞ্চয় অফার দেয়। তাই সঞ্চয় করার আগে ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ধরনের বৈশিষ্ট্য দেখে সঞ্চয় বা বিনিয়োগে যাওয়া উচিত, তা না হলে দুর্বল ব্যাংকে বিনিয়োগ করে বিপাকে পড়তে পারেন গ্রাহক।

এ ছাড়া সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে যে বিষয়টি প্রথমে মাথায় রাখা উচিত, সেটি হলো খরচের আগেই আয় থেকে সঞ্চয় আলাদা করা। অর্থাৎ ব্যয়ের পর আপনি সঞ্চয় করবেন, তা নয়; বরং আগে ঠিক করুন, কত টাকা সঞ্চয় করবেন—এরপর ব্যয় করুন। টাকা জমানোর পাশাপাশি বুঝেশুনে কিছু বিনিয়োগও করা যেতে পারে। সঞ্চয়ের পরিমাণ অল্প হলেও নিয়মিত সঞ্চয় করুন। আয় বাড়াতে না পারলে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে সঞ্চয়ের পরিমাণ বাড়ান।