যুদ্ধের প্রভাব বাজারে পড়লে কেনাকাটায় সতর্ক থাকবেন কীভাবে
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হলে সারা বিশ্ব এর প্রভাব পড়ে। কারণ, ওই অঞ্চলে অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা দেখা দিলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও খাদ্যপণ্যের দামে ওঠানামা করতে দেখা যায়। এর প্রভাব বাংলাদেশের বাজারেও পড়ে।
এখন জ্বালানি তেল নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ডলারের দাম বাড়ছে। আমদানিতে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে স্থানীয় বাজারেও। তাই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার ক্ষেত্রে একটু পরিকল্পনা ও সতর্কতা জরুরি।
দ্য গার্ডিয়ান, সিএনবিসিসহ বিশ্বের বড় বড় গণমাধ্যমে যুদ্ধের মতো সংকটে কীভাবে সাধারণ পরিবারগুলো কেনাকাটায় সতর্ক থাকবেন, সেই পরামর্শ দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে। ওই সব প্রতিবেদনে গুজবে কান দিয়ে কেনাকাটা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। ব্র্যান্ডের বদলে সস্তা পণ্য কেনার কথা বলা হয়। এ ছাড়া অপ্রয়োজনীয় পণ্য বাজারের তালিকা থেকে বাদ রাখা হয়। এভাবে সংসার খরচে সার্বিকভাবে কৃচ্ছ্রসাধনের পরামর্শ থাকে।
এবার দেখা যাক, কী ধরনের সতর্ক থাকা দরকার।
১. গুজবে বেশি কেনাকাটা নয়
যুদ্ধের মতো সংকটের সময়ে বাজারে প্রায়ই গুজব ছড়ায়। এই গুজবের প্রভাব পড়ে নিত্যপণ্যের বাজারে। তাই চাল, ডাল, তেল-নুনের দাম হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে—এমন শঙ্কায় অনেকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পণ্য কিনে ফেলেন। বাসাবাড়িতে মজুতে উৎসাহিত হন। এতে একসঙ্গে বড় অঙ্কের টাকা খরচ হয়ে যায়। তাই একসঙ্গে বেশি কেনাকাটা করবেন না।
ধরা যাক, ঢাকার একটি পরিবার মাসে ২০ কেজি চাল লাগে, কিন্তু দাম বাড়বে—এমন আশঙ্কায় তারা একবারে ৪০ কেজি চাল কিনে ফেলল। এতে হঠাৎ করেই কয়েক হাজার টাকা বেশি খরচ হয়ে যেতে পারে, যা অন্য খাতে চাপ তৈরি করে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে বাজারে এখন সয়াবিন তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। সামনে দাম বাড়তে পারে, তাই বাড়তি তেল কিনে রাখার চিন্তা করতে পারেন অনেকে। এই চিন্তা থেকে বিরত থাকা উচিত।
২.তালিকা করে বাজারে যান
বাজারে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় পণ্যের তালিকা করলে অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা কমে।
ধরা যাক, একজন ক্রেতা তালিকা ছাড়া বাজারে গেলেন। চাল, ডাল ও সবজি কেনার পাশাপাশি তিনি অতিরিক্ত বিস্কুট, পানীয় বা স্ন্যাকস কিনে ফেললেন। কিন্তু তালিকা থাকলে শুধু প্রয়োজনীয় পণ্য কেনা সহজ হয় এবং খরচও নিয়ন্ত্রণে থাকে।
৩. দামের তুলনা করুন
একই পণ্যের দাম বিভিন্ন দোকানে ভিন্ন হতে পারে। কেনার আগে কয়েকটি দোকানে দাম জেনে নেওয়া ভালো।
যেমন কোনো বাজারে এক কেজি ডালের দাম ১১০ টাকা, পাশের দোকানে তা ১০৫ টাকায় পেতে পারেন। এভাবে যেকোনো পণ্য কেনার ক্ষেত্রে কয়েকটি দোকানে খোঁজ নিলে ১০-২০ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় করা সম্ভব। মাস শেষে বেশ ভালো পরিমাণ টাকা সাশ্রয় হবে।
৪. স্থানীয় পণ্য ব্যবহারে উৎসাহিত হন
বৈশ্বিক সংকট বা যুদ্ধের সময় আমদানি করা পণ্যের দাম দ্রুত বাড়তে পারে। তাই স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্য ব্যবহার করলে খরচ কম রাখা সহজ হয়। যেমন আমদানি করা আপেল বা আঙুরের বদলে মৌসুমি দেশি ফল-কমলা, পেয়ারা বা কলা কিনলে খরচ কমে এবং পুষ্টিও পাওয়া যায়।
৫. নষ্ট হওয়ার মতো পণ্য বেশি কিনবেন না
খাদ্যপণ্য বেশি কিনে মজুত করলে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ধরা যাক, একটি পরিবার সপ্তাহে প্রায় ২ কেজি সবজি ব্যবহার করে। কিন্তু তারা যদি একবারে ৫ বা ৬ কেজি কিনে রাখে, তাহলে কিছু সবজি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এতে অর্থের অপচয় হয়।
৬. মাসিক বাজেট ঠিক করুন
পরিবারের আয় অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট বাজার বাজেট নির্ধারণ করা জরুরি। ধরা যাক, কোনো পরিবারের মাসিক বাজার বাজেট ২০ হাজার টাকা। সে ক্ষেত্রে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৫ হাজার টাকার মধ্যে বাজার করার পরিকল্পনা করলে খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।
৭. আপাতত ব্র্যান্ড এড়িয়ে চলুন
আপাতত ব্র্যান্ডপণ্য এড়িয়ে চলুন। এমন পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এতে খরচ বাড়বে। বিশেষ করে পোশাক কেনার ক্ষেত্রে এই কৌশল নিতে পারেন। প্রয়োজন না থাকলে পোশাক কেনা বন্ধই রাখতে পারেন।
আবার আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামা দেশের আমদানি ব্যয়ে প্রভাব ফেলতে পারে। যা পরুো অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। তাই বৈশ্বিক অস্থিরতার সময়ে পরিকল্পিত ও সচেতন কেনাকাটাই হতে পারে পরিবারের খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখার একটি কার্যকর উপায়।