মাসে ২৭ হাজার ৬১ টাকা দিয়ে ১৫ বছরে কোটিপতি হোন

নিয়মিত সঞ্চয় করা সবার জন্যই প্রয়োজনীয়।

সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে কোটি টাকা এখনো বড় মাইলফলক। একসময় কোটি টাকার মালিক হওয়াই ধনী হওয়ার প্রধান লক্ষণ। সেই বাস্তবতা এখন আর নেই। ঢাকা নগরে ফ্ল্যাট কিনতেই যেখানে কোটি টাকার বেশি খরচ হয়, সেখানে কোটিপতি হওয়া বিলাসের বিষয় নয়।

তবু মধ্যবিত্তের কাছে কোটি টাকা এখনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সব ব্যয় মিটিয়ে হাতে যদি এক কোটি টাকা থাকে, তাহলে জীবনের শেষ অধ্যায় স্বস্তি ও নিরাপত্তার মধ্যে কাটানো সম্ভব।

এই বাস্তব প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখেই দেশের বিভিন্ন ব্যাংক চালু করেছে ‘কোটিপতি স্কিম’। দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রাইম ব্যাংকেরও আছে এমন একটি স্কিম—এর নাম প্রাইম হাসানাহ কোটিপতি স্কিম। নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা নিয়মিত জমা রাখলে সর্বোচ্চ ১৫ বছরে কোটিপতি হওয়া যায়। এই স্কিমের মেয়াদ ৫ বছর থেকে শুরু করে ১৫ বছর পর্যন্ত। এই স্কিমে দুই ধরনের ব্যবস্থা আছে। প্রথমত, ১ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত প্রাথমিক জমা ও নির্দিষ্ট কিস্তি দিয়ে মেয়াদ শেষে কোটিপতি হওয়া যায়। দ্বিতীয়ত, প্রাথমিক জমা না দিয়েও শুধু মাসিক কিস্তি দিয়ে মেয়াদ শেষে কোটিপতি হওয়া যায়।

কত মেয়াদে কত কিস্তি

সাধারণত দেখা যায়, যে হিসাবের মেয়াদ যত বেশি হয়, সেই হিসাবের কিস্তি তত কম হয়। আবার মেয়াদ কম হলে কিস্তি বেশি হয়। দেখে নেওয়া যাক, প্রাইম ব্যাংকের কোটিপতি স্কিমে কোন মেয়াদে কত কিস্তি দিতে হয়—

বৈশিষ্ট্য

ক. আকর্ষণীয় সাময়িক মুনাফার সুবিধা।

খ. ৫, ৭, ১০, ১২ ও ১৫ বছর—যেকোনো মেয়াদ বেছে নেওয়ার সুযোগ।

গ. প্রাথমিক জমাসহ বা ছাড়া সহজ কিস্তিতে সঞ্চয়ের ব্যবস্থা।

ঘ. জমাকৃত টাকার সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগের সুবিধা।

ঙ. একাধিক ‘প্রাইম হাসানাহ কোটিপতি ডিপিএস (আনুমানিক)’ খোলার সুযোগ।

চ. মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে হিসাব ভাঙলে তুলনামূলক সুবিধাজনক শর্তে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ।

ছ. সরকারি বিধান অনুযায়ী মেয়াদান্তে প্রদেয় অর্থের ওপর উৎসে কর ও আবগারি শুল্ক কর্তন করা হবে।

যোগ্যতা

ক. যেকোনো বয়সের বাংলাদেশি নাগরিক এই স্কিমে আবেদন করতে পারবেন।

খ. প্রাইম ব্যাংকে সক্রিয় লেনদেনযোগ্য সংযুক্ত হিসাব (চলতি বা সঞ্চয়ী) থাকতে হবে।

গ. অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে অভিভাবক বা আইনগত অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে হিসাব খোলার সুযোগ আছে।

ঘ. একক নামে হিসাব খোলা যাবে, যেখানে পরিচালনার দায়িত্ব থাকবে অভিভাবকের ওপর, অথবা

ঙ. অভিভাবকের সঙ্গে যৌথভাবে হিসাব খোলা যাবে; উভয় ক্ষেত্রেই হিসাব পরিচালনার ক্ষমতা থাকবে অভিভাবকের হাতে।

কী লাগবে

ব্যক্তিগত সঞ্চয় স্কিমের হিসাব খোলার নির্ধারিত আবেদনপত্র যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে। প্রাইম ব্যাংকে সক্রিয় লেনদেন বা সংযুক্ত হিসাব (চলতি বা সঞ্চয়ী) থাকা বাধ্যতামূলক।

এ ছাড়া হিসাব খুলতে সাধারণত যেসব কাগজপত্র লাগে, এ ক্ষেত্রেও তা–ই লাগবে। আপনার নিজের ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), নমিনির ছবি ও এনআইডি এবং ওই ব্যাংকে হিসাব আছে, এমন একজন পরিচয়দানকারী। গ্রাহকের ছবি সত্যায়ন করবেন পরিচয়দানকারী। নমিনির ছবি সত্যায়ন করবেন গ্রাহক। ফরমের নির্দিষ্ট স্থানে সবার স্বাক্ষর লাগবে। জরুরি প্রয়োজনে ব্যাংক যোগাযোগ করবে, এমন একজনের নাম–ঠিকানাও দিতে হবে।

সতর্কতা

বাজারে বিভিন্ন ব্যাংক নানা ধরনের সঞ্চয় অফার দেয়। তাই সঞ্চয় করার আগে ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ধরনের বৈশিষ্ট্য দেখে সঞ্চয় বা বিনিয়োগে যাওয়া উচিত, তা না হলে দুর্বল ব্যাংকে বিনিয়োগ করে বিপাকে পড়তে পারেন গ্রাহক।

এ ছাড়া সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে যে বিষয়টি প্রথমে মাথায় রাখা উচিত, সেটি হলো খরচের আগেই আয় থেকে সঞ্চয় আলাদা করা। অর্থাৎ ব্যয়ের পর আপনি সঞ্চয় করবেন, তা নয়; বরং আগে ঠিক করুন, কত টাকা সঞ্চয় করবেন, এরপর ব্যয় করুন। টাকা জমানোর পাশাপাশি বুঝেশুনে কিছু বিনিয়োগও করা যেতে পারে। সঞ্চয়ের পরিমাণ অল্প হলেও নিয়মিত সঞ্চয় করুন। আয় বাড়াতে না পারলে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে সঞ্চয়ের পরিমাণ বাড়ান।

এই চর্চা নিয়মিত করলে একসময় দেখা যাবে, সাধ্যের মধ্যেও প্রয়োজনীয় সঞ্চয় করা সম্ভব।