ব্যবসার জন্য গাড়ি কিনতে ১ কোটি টাকা ঋণ পাবেন উদ্যোক্তারা, কোথায় যাবেন

ব্যবসা ছোট হোক কিংবা মাঝারি বা বড়—পণ্য পরিবহনের জন্য গাড়ি লাগে। পণ্য পরিবহনে ট্রাক ও পিকআপ দরকার হয়। নিজের গাড়ি না থাকলে গাড়ি ভাড়া করতে হয়। ভাড়ার জন্য প্রতি মাসে অনেক টাকা খরচ হয়ে যায়। এমন উদ্যোক্তাদের জন্য সুখবর আছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইডিএলসি এমন উদ্যোক্তাদের গাড়ির ঋণ দিচ্ছে।

আপনি যদি একজন পোশাক ব্যবসায়ী হোন, তাহলে পণ্য বিক্রির পর প্রতি সপ্তাহে বিভিন্ন জায়গায় পণ্য পাঠাতে হয়। আর ফলের আড়তদার হলে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও বিভিন্ন খুচরা দোকানে ফল দিতে হয়। নিজের পরিবহন থাকলে নিঃসন্দেহে আপনি ব্যবসার জন্য আরেক ধাপ এগিয়ে থাকবেন। এর ফলে অন্যের ওপর নির্ভরতা কমে যাবে। আবার ব্যবসার গতিও বাড়বে।

কিন্তু সমস্যা হলো, হঠাৎ করে পরিবহন কেনা অনেকের জন্যই সহজ নয়। ব্যাংকঋণের দীর্ঘ প্রক্রিয়া, কাগজপত্র ও জামানতের ঝামেলা অনেক উদ্যোক্তাকে পিছিয়ে দেয়। এমন বাস্তবতায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) উদ্যোক্তাদের যানবাহন কেনার জন্য বিশেষ ঋণসুবিধা দিচ্ছে আইডিএলসি।

২০১১ সালে চালু হওয়া এই ঋণসেবার নাম হচ্ছে এসএমই বাহন। এই ঋণসেবার মাধ্যমে একজন উদ্যোক্তা চাইলে সেই বাহনের মূল্যের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বা এক কোটি টাকা পর্যন্ত কিংবা তারও বেশি ঋণ পাবেন। নতুন বা রিকন্ডিশন্ড—দুই ধরনের গাড়ির ক্ষেত্রে এই সুবিধা পাওয়া যাবে।

ঋণের বৈশিষ্ট্য কী

এসএমই বাহন মূলত এসএমই উদ্যোক্তা, পরিবহন পরিচালনাকারী এবং বিকাশমান ব্যবসায়ী উদ্যোক্তাদের জন্য। এই ঋণসেবার আওতায় বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত এবং এক্সিকিউটিভ (উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা করপোরেট ব্যবহারের জন্য) উভয় ধরনের গ্রাহকের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থায়ন সুবিধা দেওয়া হবে।

মূলত দেশের অর্থনীতির চালিকা শক্তি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি পরিবহন ও লজিস্টিকস সেবা প্রদানকারীদের জন্য এই ঋণসেবা। যাদের সাফল্য নির্ভর করে নির্ভরযোগ্য যানবাহনের ওপর।

সুদ কত, শোধের সময় কত

এসএমই বাহন ঋণসুবিধায় সাধারণত ১৩-১৫ শতাংশ পর্যন্ত সুদহারে ঋণ নেওয়া যাবে। এর ঋণ পরিশোধের জন্য ১-৫ বছর পর্যন্ত সময় পাওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে সেই বাহনের মোট মূল্যের সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণসুবিধা পাওয়া যাবে। এ ছাড়া মাসিক কিস্তির ভিত্তিতে সহজ ও সুবিধাজনক সময়ে পরিশোধ করা যাবে।

এ ক্ষেত্রে গাড়ি বা ট্রাক কেনার পর এর নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) হবে আইডিএলসির নামে। এরপর ঋণ পরিশোধের পর আইডিএলসি সেই বাহনের মালিকানা ঋণগ্রহীতার নামে করে দেবে।

আইডিএলসি জানায়, এ পর্যন্ত আইডিএলসি ফাইন্যান্স প্রায় ২ হাজার ১০০ জনের বেশি অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) উদ্যোক্তাকে এসএমই বাহন ঋণসুবিধা দিয়েছে। সব মিলিয়ে আইডিএলসি মোট প্রায় ৬৭১ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে।

ঋণ নিতে কী লাগে

ঋণ আবেদনের জন্য প্রাথমিকভাবে কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে উদ্যোক্তাদের। এর মধ্যে রয়েছে হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, জাতীয় পরিচয়পত্র, টিআইএন সনদ, কর প্রদানের সনদ।

এ ছাড়া ব্যবসার গত ১২ মাসের বিক্রির প্রতিবেদন, ভাড়ার রসিদ ও ব্যাংক হিসাবের বিবরণীও জমা দিতে হবে। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবসার অতিরিক্ত তথ্য বা কাগজপত্রও চাওয়া হতে পারে।

আইডিএলসির এসএমই বিভাগের প্রধান আদনান রশীদ বলেন, এসএমই বাহন ফাইন্যান্সিং সুবিধার আওতায় আইডিসিএল ইতিমধ্যে ৭৯ জন নারী সিএমএসএমই উদ্যোক্তাকে ঋণসুবিধা দিয়েছে। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ ২৬ কোটি টাকার বেশি। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এই ঋণসুবিধাটি বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃ অর্থায়ন সুবিধার মাধ্যমে ৫ শতাংশ সুদহারে নিতে পারবেন।