চুক্তির পর আপনারা কি আমদানির বিষয়ে ইউক্রেনের রপ্তানিকারকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন?

আবুল বশর চৌধুরী: আমরা সাধারণত তৃতীয় দেশের সরবরাহকারীর মাধ্যমে ইউক্রেন থেকে ৯০ শতাংশ পণ্য আমদানি করি। এসব সরবরাহকারীর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছি। এখানে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে শুরু করে যোগাযোগসহ নানা অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। যেমন ইউক্রেনের বন্দরে রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণ, সেখানে গুদাম থেকে বন্দরে পণ্য আনা পর্যন্ত অবকাঠামো ঠিক নেই। আবার বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে কতটুকু আস্থায় নিচ্ছে—সেটিও একটি বিষয়। চুক্তি হওয়ায় এসব সমস্যা কেটে যাবে বলে আশা করছি। চুক্তিতে আপাতত তিনটি বন্দর খুলে দেওয়ার কথা আছে। যুদ্ধ শুরুর সময় ইউক্রেনের বিভিন্ন বন্দরে ১০০টি পণ্যবোঝাই জাহাজ আটকা পড়েছিল। সেখানে নাবিকদের ফেরানোর বিষয়টি আছে। এসব চ্যালেঞ্জ কেটে গেলে সে দেশ থেকে আমদানি স্বাভাবিক হবে।

যুদ্ধের কারণে ইউক্রেন থেকে খাদ্যশস্য আমদানি বন্ধ ছিল। নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও রাশিয়া থেকেও আমদানি হয়নি। এই চুক্তি আমাদের জন্য আমদানিতে কীভাবে সুফল আনবে?

আবুল বশর চৌধুরী: মূলত যুদ্ধের আগে থেকেই গত অর্থবছরে রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে খাদ্যশস্য, বিশেষ করে, কম আমিষযুক্ত গম আমদানি কমে আসছিল। এর প্রধান কারণ ছিল, বিকল্প উৎস হিসেবে ভারতের বাজার খুলে যাওয়া। জাহাজের ভাড়া বৃদ্ধি হওয়ায় রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে প্রতি টন গম আমদানিতে খরচ পড়ত ৭০ ডলার। একই মানের গম ভারত থেকে আমদানিতে জাহাজের ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ কম ছিল। এতে যুদ্ধের আগেই রাশিয়া-ইউক্রেনের পরিবর্তে ভারত থেকে গম আমদানি বেড়েছিল। যুদ্ধাবস্থার কারণে রাশিয়া থেকে গম আমদানি হয়নি। ভারত রপ্তানি বন্ধের পর এখন আবার ইউক্রেনের বাজার খুলে গেল। ভারতের বাজার না খুললেও এখন বিকল্প উৎস হিসেবে ইউক্রেন বা অন্য দেশ থেকে আমদানি হতে পারে।

চুক্তির আগে থেকেই বিশ্ববাজারে গমের দাম পড়তির দিকে। চুক্তির পর এক দিনে কমোডিটি এক্সচেঞ্জে গমের দাম সোয়া ৬ শতাংশ কমেছে। দেশে কি এর কোনো প্রভাব পড়েছে?

আবুল বশর চৌধুরী: বিশ্ববাজারে গমের দাম কিছুটা সংশোধিত হওয়ায় দেশের বাজারেও দাম কমেছে। তবে এটা ঠিক, ডলারের দাম অস্বাভাবিক বাড়ায় বিশ্ববাজারের সুফল দেশে পুরোপুরি পাওয়া যাবে না। উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। ধরুন, বিশ্ববাজারে গমের দাম এক মাসে ১৫ শতাংশ কমেছে। কিন্তু আমাদের এখানে ডলারের বিনিময় হার বেড়েছে ১৮ থেকে ১৯ শতাংশ। তাহলে স্বাভাবিকভাবেই আমদানি খরচ খুব বেশি কমছে না। এরপরও বৈশ্বিক প্রভাবে বাজারে দাম কমেছে। বিশ্ববাজারে আরও সংশোধিত হলে এখানেও দাম কমার প্রভাব পড়বে।

প্রথম আলো: একের পর এক দেশের নিষেধাজ্ঞায় গম আমদানিতে প্রভাব পড়েছে, আমদানি কমেছে। আমদানি কমায় সাময়িক কোনো সংকট তৈরি করবে?

আবুল বশর চৌধুরী: আমার মনে হয় সংকট হবে না। ইউরোপে এখন কম আমিষযুক্ত গমের ফলন উঠতে শুরু করেছে। বছর শেষে এই তালিকায় যুক্ত হবে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া। চুক্তির পর যদি ইউক্রেন থেকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় গম আমদানি করা যায়, তাহলে সমস্যা হবে না। এরপরও ভারত থেকে গম আমদানিতে যে বিধিনিষেধ আছে, তা শিথিল করতে সরকারি পর্যায়ে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। তাহলে আমাদের এখানে কোনো সমস্যা হবে না বলে আশা করা যায়।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন