সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর কাজীপাড়ার এক পরিবেশকের দোকানে টিসিবির পণ্য নিতে আসেন মিরপুরের দিনমজুর মো. জাকির হোসেন। কিন্তু জানতে পারেন, আজ পণ্য বিক্রি হবে না। প্রথম আলোকে জাকির হোসেন বলেন, ‘আজ থেকে টিসিবির খাবার বিক্রি হবে শুনে এসেছিলাম; কিন্তু এখানে এসে জানতে পারি, আরও দু-এক দিন সময় লাগবে।’

পণ্য বিক্রি না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে কাজীপাড়ার ওই পরিবেশক জানান, গতকাল রোববার বিকেলে তিনি টিসিবির পণ্য সংগ্রহের অনুমতি পেয়েছেন। আজ টাকা জমা দিয়ে পণ্য বুঝে নেবেন আর আগামীকাল থেকে পণ্য বিক্রি করতে পারবেন। একই কথা জানিয়েছেন ঢাকার রূপনগর, মোহাম্মদপুর, হাজারীবাগসহ বেশ কয়েকটি এলাকার পরিবেশকেরা।

পণ্য বিতরণে বিশৃঙ্খলা এড়াতে এখন আর আগের মতো ট্রাকে করে পণ্য বিক্রি করছে না টিসিবি। শুধু পরিবার কার্ডের মাধ্যমে পরিবেশকের দোকানে বা নির্দিষ্ট স্থানে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। গত ২২ জুন থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত পরিবার কার্ডের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করেছে টিসিবি। এরপর আগস্টের প্রথম দিন সারা দেশের এক কোটি পরিবার কার্ডধারীকে পর্যায়ক্রমে ভর্তুকি মূল্যের পণ্য বিক্রির ঘোষণা দেয় সংস্থাটি।

তবে ঢাকার পরিবেশকদের পর্যায়ক্রমে পণ্য বিতরণের অনুমতি দিচ্ছে টিসিবি। আগস্ট মাসের জন্য প্রথম ধাপে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৩ জন ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩১ জন পরিবেশক এ অনুমতি পেয়েছেন। টিসিবি জানিয়েছে, তাঁরা সোমবারের মধ্যে টিসিবির কাছে টাকা জমা দিয়ে পণ্য বুঝে নেবেন। আর পরদিন মঙ্গলবার থেকে এসব পরিবেশকেরা ভোক্তাদের কাছে পণ্য বিক্রি করবেন। বাকি পরিবেশকদের কাছেও পর্যায়ক্রমে পণ্য সরবরাহ করা হবে। এদিকে মঙ্গলবার রাজধানীর শ্যামলীতে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি আগস্ট মাসের পণ্য বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছে টিসিবি।

সংস্থাটি জানিয়েছে, এই দফায় নিম্ন আয়ের পরিবার কার্ডধারী ভোক্তা সর্বোচ্চ দুই লিটার সয়াবিন তেল, দুই কেজি মসুর ডাল, এক কেজি চিনি ও দুই কেজি পেঁয়াজ কিনতে পারবেন। প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ১১০ টাকা, প্রতি কেজি চিনি ৫৫ টাকা, এক কেজি মসুর ডাল ৬৫ টাকা ও প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২০ টাকা দরে বিক্রি হবে। তবে পেঁয়াজ বিক্রি হবে শুধু সিটি করপোরেশন এলাকা ও টিসিবির আঞ্চলিক কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন