চাকরিজীবনে এখনো বড় পদে যেতে পারেননি। কিংবা ব্যবসা করলেও তা খুব বড় না। মাসে যে আয় তাতে নিজের একটি বাড়ির স্বপ্ন দেখতেই রীতিমতো ভয় পাচ্ছেন। তবে সেই দিন হয়তো শেষ হতে যাচ্ছে। কারণ, স্বল্প আয়ের চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইডিএলসি। তারা এই সেবাপণ্যের নাম দিয়েছে অ্যাফর্ডেবল হোম লোন বা সাশ্রয়ী গৃহঋণ।
২০১৯ সালের জুলাইয়ে দিকে সেবাপণ্যটি চালু করে আইডিএলসি। যাঁরা ঢাকার বাইরে থাকেন এবং মাসিক আয় ২০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা, তাঁরাই এ গৃহঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। নতুন ফ্ল্যাট কেনা, সেমিপাকা ও পাকা ভবন নির্মাণ এবং পুরোনো ভবন সংস্কার ও সম্প্রসারণেও এই ঋণ মিলবে। আবার যাঁদের কর্মক্ষেত্র ঢাকায়, তাঁরা যদি ঢাকার বাইরে নিজের পরিবারের জন্য আবাসন করতে চান, তবে এ গৃহঋণ নিতে পারবেন।
এই সেবাপণ্যটির মাধ্যমে ফ্ল্যাট বা বাড়ির মোট মূল্যের ৮০ শতাংশ ঋণ দেবে আইডিএলসি। আর ঋণের পরিমাণ সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা। ২০ বছরের মাসিক কিস্তিতে এই ঋণ সুদাসলে পরিশোধ করার সুযোগ পাবেন গ্রাহকেরা। ইতিমধ্যে ঢাকার বাইরের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষক, ছোট ব্যবসায়ী, পাড়ার মুদিদোকানি, নার্সসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ এই গৃহঋণ নিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি গৃহঋণ বিতরণ হয়েছে সাভার ও গাজীপুরে।
সাশ্রয়ী গৃহঋণ নিয়ে গত সপ্তাহে আইডিএলসির কনজ্যুমার ডিভিশনের বা ভোক্তা বিভাগের প্রধান মেহজাবিন বিনতে রহমানের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, ঋণপণ্যটি চালুর পর গত তিন বছরে ৩ হাজার জন চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ী ৪৫০ কোটি টাকা গৃহঋণ নিতে আবেদন করেছেন। তার মধ্যে ২ হাজার জনকে ২৫০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। বিতরণকৃত ঋণের গড় পরিমাণ ১৫ লাখ টাকা।
আইডিএলসি রাজধানীর গুলশান, ধানমন্ডি, এলিফ্যান্ট রোড, উত্তরা, মিরপুর, দিলকুশা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, সাভারসহ বেশ কয়েকটি কার্যালয় থেকে গৃহঋণ দেওয়ার প্রক্রিয়া করছে। প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র থাকলে সব প্রক্রিয়া শেষ করে গৃহঋণ বিতরণে ১ থেকে ৩ মাস সময় প্রয়োজন হয় বলে জানালেন আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা।
গৃহঋণের জন্য আবেদনে বাধ্যতামূলকভাবে ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র, ইটিআইএন সনদ অথবা আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রমাণপত্র, ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের এক বছরের বিবরণী, চাকরিজীবীদের জন্য বেতন সনদ, ব্যবসায়ীদের জন্য পাঁচ বছরের ট্রেড লাইসেন্সসহ বেশ কয়েকটি কাগজপত্র লাগবে। এর বাইরে আনুমানিক নির্মাণ ব্যয়, জমির মূল মালিকানা দলিল, খতিয়ানের সার্টিফায়েড কপি, নামজারি খতিয়ান, অনুমোদিত ভবনের নকশা ও নির্মাণের অনুমোদনপত্র ইত্যাদি কাগজপত্রও লাগবে।
ঋণ প্রদানে কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হচ্ছে, জানতে চাইলে মেহজাবিন বিনতে রহমান বলেন, ‘জমির দলিলসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথির ডিজিটালাইজেশন না হওয়ায় নানামুখী সমস্যায় পড়তে হয়। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি। আবার অনেকেই নগদে বেতন নেন। ব্যবসায়ীরাও ব্যাংকে লেনদেন কম করছেন। মোদ্দা কথা হচ্ছে, ঢাকায় ১৫ বছর আগে গৃহঋণ দিতে যেসব প্রতিবন্ধকতা ছিল ঢাকার বাইরে এখন সেই অবস্থা। তবে আমরা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে এই সেবাপণ্যটির প্রচারণা চালাচ্ছি। বোঝানোর চেষ্টা করছি, আপনিও ঋণ নিতে পারবেন।’
আইডিএলসির এই কর্মকর্তা বললেন, বর্তমানে ৯ শতাংশ থেকে সাড়ে ৯ শতাংশে গৃহঋণ দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে সুদের হার সমন্বয় করার প্রয়োজন হলে সাশ্রয়ী গৃহঋণের বিষয়টি মাথায় রাখা হবে। অন্য জায়গায় ২ শতাংশ বাড়লে এখানে নিশ্চয়ই তার চেয়ে অনেক কমহারে বাড়বে।
মেহজাবিন বিনতে রহমান বলেন, ‘আমরা নিজস্ব তহবিল থেকেই সাশ্রয়ী গৃহঋণ নামের সেবাপণ্যটি চালু করেছি। ঋণ পরিশোধের হারও অনেক ভালো। ইতিমধ্যে আমরা এই ঋণ কার্যক্রমের জন্য বিদেশি সংস্থার কাছ থেকে তহবিল পাওয়ার চেষ্টা করছি। সেটি হলে আরও বেশি মানুষকে ঋণ দেওয়া যাবে। গৃহঋণ বিতরণ প্রক্রিয়া সহজ করতে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কাজ করছি।’