তিন দিনের ‘থাই ব্র্যান্ডস’ প্রদর্শনী: এক ছাদের নিচে শত পণ্যের সমাহার
কোনো স্টলে থাই স্বাদের বৈচিত্র্যময় খাবার, কোনো স্টলে থাই পানীয়; আবার কোনো স্টলে রয়েছে থাই কসমেটিকস ও স্কিনকেয়ার পণ্য। থাইল্যান্ডের এমন জনপ্রিয় বিভিন্ন পণ্য ও সেবা নিয়ে রাজধানীতে শুরু হয়েছে তিন দিনের ‘টপ থাই ব্র্যান্ড’ প্রদর্শনী।
এই প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য—বাংলাদেশে থাই পণ্যের বাজার বৃদ্ধি, দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক সংযোগ বাড়ানো এবং গ্রাহকদের থাই পণ্যের বিষয়ে আরও বেশি জানানো।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। প্রদর্শনীটি আগামী শনিবার পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদর্শনীটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিতিপর্ন চিরাসাওয়াদি, কমার্শিয়াল অ্যাফেয়ার্সের মিনিস্টার কাউন্সেলর আনুসর্ন কৌতিপভিট্টায়াসহ রয়্যাল থাই দূতাবাসের কর্মকর্তারা, থাইল্যান্ডের অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রদর্শনীতে প্রায় ৬০টি স্টলে থাইল্যান্ডের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশি আমদানিকারক ও এজেন্টরা অংশ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো খাদ্য ও পানীয়, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যসেবা ও সুস্থতা, ফ্যাশন, প্রসাধনী, নির্মাণসামগ্রী, রাসায়নিক ও লুব্রিকেন্ট, স্টেশনারি ও শিশু পরিচর্যাসহ বিভিন্ন খাতের পণ্য প্রদর্শন করছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ‘থাইল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার। বাংলাদেশ থেকে থাইল্যান্ডে রপ্তানি হয় ২৫ কোটি ডলারের পণ্য। আর থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে ১০০ কোটি ডলারের পণ্য ও সেবা আমদানি হয়। ফলে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও এটিকে আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।’
কৌশলগত অবস্থান, ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বাজার, প্রতিযোগিতামূলক শ্রম ও বিনিয়োগবান্ধব নীতির কারণে বাংলাদেশ আকর্ষণীয় বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত হয়েছে বলে জানান খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, সরকার বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্যোক্তা তৈরি এবং বেসরকারি খাতের উন্নয়নের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে কাজ করছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, পর্যটন, চামড়া, টেক্সটাইল, অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ, রাবার পণ্য ও অন্যান্য উৎপাদন শিল্পের মতো খাতগুলোতে থাইল্যান্ডের বিনিয়োগ আশা করছি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থাইল্যান্ডে তার রপ্তানি বহুমুখী করতে আগ্রহী। বিশেষ করে দেশটিতে ওষুধ, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যদ্রব্য, পাটজাত পরিবেশবান্ধব পণ্য, চামড়াজাত পণ্য ও হালকা প্রকৌশল পণ্য রপ্তানি করতে পারে বাংলাদেশ।’
মেলায় যা দেখা গেল
আজ একটি স্টলে থাই স্বাদের বৈচিত্র্যময় খাবার ও পানীয় প্রদর্শনী করছিলেন জিলাডা আনানসুভিতারা। তিনি ডিসি ওয়ার্ল্ড নামের থাইল্যান্ডের একটি কোম্পানির ওভারসিজ মার্কেটিং ম্যানেজার। জিলাডা এবারই প্রথম বাংলাদেশে এসেছেন। তাঁর উদ্দেশ্য বাংলাদেশে বিভিন্ন থাই খাদ্যসামগ্রী বিক্রির জন্য পরিবেশক খোঁজা।
জিলাডা আনানসুভিতারা প্রথম আলোকে বলেন, ‘গতকাল (বুধবার) আমি ঢাকার একটি বড় সুপারশপ দেখতে গিয়েছিলাম। আমি দেখেছি, সুপারশপে ইতিমধ্যে অনেক থাই পণ্য বিক্রি হচ্ছে। সুপারশপের বিক্রেতারা বলেন, “এখানে থাই পণ্যের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এ কারণে আমরাও বাংলাদেশে থাই পণ্য বিক্রির জন্য পরিবেশক খুঁজছি”।’
বিভিন্ন ধরনের শুকনা (ড্রাই) থাই ফ্রুট প্রদর্শন করা হচ্ছিল ডিইউ গ্রুপের একটি স্টলে। এর মধ্যে রয়েছে শুকানো আম, আনারস, স্ট্রবেরি, চেরি প্রভৃতি। স্টলটিতে আসা দর্শনার্থীদের এসব পণ্য সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছিলেন ডিইউ গ্রুপের করপোরেট সেলস ব্যবস্থাপক নাজমুল আলম ভূঁইয়া। তিনি জানান, তাঁদের প্রতিষ্ঠান থাইল্যান্ডের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ড্রাই ফুড, স্যুপ, বিস্কুট ও পানীয় বাংলাদেশে আমদানি করে।
নাজমুল আলম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা মূলত বিভিন্ন সুপারশপ ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানে এসব পণ্য বিক্রি করি। করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত উপহার হিসেবে এসব পণ্য বিভিন্ন গ্রাহক ও অংশীজনদের দিয়ে থাকে। সব মিলিয়ে প্রতি মাসে তাদের ৮ কোটি টাকার বেশি পণ্য বিক্রি হয়। সবচেয়ে বেশি কেনেন ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের কোম্পানিগুলো।’
আজ দুপুরে রাজধানীর পান্থপথ এলাকা থেকে টপ থাই প্রদর্শনীতে ঘুরতে আসেন একটি কোম্পানির করপোরেট কমিউনিকেশনস বিভাগের ব্যবস্থাপক নেয়ামত উল্লাহ। তিনি বলেন, ‘দুই দিন আগেই খবরে এই প্রদর্শনী সম্পর্কে শুনেছিলাম। থাইল্যান্ডের পণ্য নিয়ে আমার আগ্রহ রয়েছে। সে জন্য আজ দেখতে এসেছি।’