বিকেএমইএর সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমানের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ডিজেলের দাম ৪৩ শতাংশ বাড়িয়ে প্রতি লিটার ১১৪ টাকা (অর্থাৎ লিটারে ৩৪ টাকা বৃদ্ধি) করার কারণে এর প্রভাব সরাসরি বিদ্যুৎ, পরিবহনসহ অন্য উপখাতগুলোয় পড়বে। যা প্রকারান্তরের নিট পোশাক খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হ্রাস করবে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে জরুরি আলোচনায় বসে সরকারের খাতভিত্তিক বিকল্প পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করে বিকেএমইএ।
শিল্প উদ্যোক্তারা মারাত্মকভাবে চাপে আছেন উল্লেখ করে সংগঠনটি বলছে, এই খাতে মূলত পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও শ্রমিক—এই চারটি দেশীয় উপাদানকে মূল সরবরাহব্যবস্থায় ধরে বাকি সব কাঁচামাল বহির্বিশ্ব থেকে আমদানি করে রপ্তানিপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু দেশীয় উপাদানগুলো প্রাপ্তিতে কোনো ধরনের চাপ তৈরি হলে পুরো খাত চাপে পড়ে যাবে। এমনিতেই বিগত কিছু সময় ধরে কারখানায় গ্যাসের প্রবাহ ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। এতে উৎপাদনপ্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। এর ওপর চলতি ২০২২-২৩ সালের বাজেটে উৎসে কর দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ১ শতাংশ করায় সামগ্রিকভাবে নিট পোশাক খাত চাপে আছে।

তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে তৈরি পোশাক খাতের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে বিকেএমইএ বলছে, ‘দীর্ঘ দুই বছর যাবৎ করোনা মহামারির কারণে বিশ্ব অর্থনীতি একধরনের দীর্ঘ শ্লথ প্রবৃদ্ধির দিকে এগিয়েছে। যা থেকে আমরা এখনো বেরোতে পারিনি। তার ওপর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি নেতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। মন্দার দিকে ধাবিত হচ্ছে সারা বিশ্বের অর্থনীতি। ফলে পুরো বিশ্বের কাঁচামাল সরবরাহব্যবস্থায় একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যার নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি নিট পোশাকসহ দেশের পোশাকশিল্পের ওপর পড়েছে।’

এত কিছুর পরও গত বছর এক দফা বিদ্যুৎতের ও মাত্র কিছুদিন আগে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি করেছে সরকার। এসব সিদ্ধান্ত উদ্যোক্তাদের ব্যাপক চাপে ফেলবে জেনেও দেশের স্বার্থে বিকেএমইএর পক্ষ থেকে এটিকে স্বাগত জানানো হয়। কিন্তু এখন জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে পুরো উৎপাদনপ্রক্রিয়ার ওপর মারাত্মক চাপের সৃষ্টি করবে। এতে বিশ্ববাজারে দেশের নিট পোশাক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারানোর আশঙ্কা করছে বিকেএমইএ।

এমন পরিস্থিতিতে যে অর্থনৈতিক বোঝা তৈরি হয়েছে, তাতে রপ্তানিমুখী নিট পোশাকশিল্পের ধারাবাহিক বিকাশকে ধরে রাখতে জরুরিভাবে আপৎকালের জন্য এই শিল্পের উদ্যোক্তাদের নগদ সহায়তার হার বৃদ্ধি করে তা সমন্বয়ের অনুরোধ জানাচ্ছে বিকেএমইএ।

পরিস্থিতি ও নীতিগত কারণে যদি এই শিল্প খাত একবার বিপর্যয়ের মুখে পড়ে, তবে তা রপ্তানি ও বাংলাদেশের অর্থনীতি দুটোকে সামগ্রিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এই বিষয়তে সবার দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন বলে মনে করে বিকেএমইএ। তাই এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে সামগ্রিক বিষয়ে অতীতের মতোই সরকারের ব্যবসাবান্ধব নীতিগত সহায়তা কামনা করেছে নিট পোশাক খাতের এই সংগঠন।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন