সম্প্রতি প্রকাশিত গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর মাস এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপের এক জরিপ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ২০২০ ও ২০২১ সালে দুই দফায় ১ হাজার ৯৫৫টি এমএসএমই প্রতিষ্ঠানের ওপর জরিপটি করা হয়।

জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, করোনার সময় ভারতের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সবচেয়ে অসুবিধায় পড়েছিলেন। জরিপে অংশ নেওয়া উদ্যোক্তাদের ৫০ শতাংশ জানান, মহামারির প্রভাব মোকাবিলার জন্য তাঁদের কোনো পূর্বপ্রস্তুতি ছিল না। কোনো ধরনের কৌশল বা প্রক্রিয়াও জানা ছিল না তাঁদের।

প্রায় ৩৮ শতাংশ উত্তরদাতা জানান, তাঁদের কোনো ধরনের সঞ্চয় ছিল না। মহামারি আসার পর তাঁরা কোনো ঋণও পাননি। প্রয়োজনীয় জামানত না থাকায়, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ঋণ নিতে গিয়ে অসুবিধায় পড়েছেন। ৪০ শতাংশ উদ্যোক্তা ঋণ নিতে গিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। ফলে কেউ কেউ আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধারকর্জ নিয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখেন, আবার অনেকেই একপর্যায়ে ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হন।

ব্যবসায়ীরা জানান, গ্রাহক কমে যাওয়া, ঠিকভাবে ঋণসুবিধা না পাওয়া ও লকডাউন তথা বিধিনিষেধের কারণে তাঁরা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে পারছিলেন না। তাই ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন। জরিপের তথ্যানুযায়ী, করোনার কারণে বিভিন্ন এমএসএমই প্রতিষ্ঠান থেকে ছাঁটাই হওয়া কর্মচারীদের মধ্যে ৫৫ শতাংশই ছিলেন নারী।

উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করতে ভারত সরকার ‘আত্মনির্ভর ভারত উদ্যোগ’ নামে প্রণোদনা সহায়তার ব্যবস্থা করেছিল। তবে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর মাস এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপের সহপ্রতিষ্ঠাতা রবি ভেঙ্কটেসন বলেন, এমএসএমই খাতের মাত্র ৩১ শতাংশ উদ্যোক্তা সরকারের স্কিমগুলো সম্পর্কে জানতেন। বাকিরা এসব সুবিধা নিতে পারেনি। এ রকম পরিস্থিতিতে যেসব উদ্যোক্তা নিজেদের পরিবার ও পরিচিতজনের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে পেরেছেন, তাঁরাই কেবল ব্যবসায় টিকে ছিলেন।