গত আগস্টের পর অনেক পণ্য তৈরি করে রপ্তানির অপেক্ষায় আছি। কিন্তু রপ্তানি চালান জাহাজীকরণের অনুমতি দিচ্ছে না বিদেশি ক্রেতারা। কারণ, তাদের শোরুমগুলোতে জুতা বিক্রি কমে যাওয়ায় পণ্যের স্তূপ জমে গেছে। মার্চের আগে এ সমস্যা কাটছে না বলেই অনুমেয়। আগস্টের পর ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় দেশে গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যা দেখা দিলেও এখনো তার বড় ধরনের প্রভাবের মুখে পড়তে হয়নি আমাদের। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হলে এবং ক্রয়াদেশ বাড়লে সমস্যায় পড়তে হতে পারে। আবার ডলার-সংকট হলেও রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এখনো কাঁচামাল আমদানির সুযোগ পাচ্ছি। রপ্তানি খাতে এখন বড় সমস্যা বৈশ্বিক পরিস্থিতি।

এক যুগ আগে গড়ে ওঠা ম্যাফ সুজ লিমিটেডের ক্রয়াদেশ বাড়ছিল। ক্রয়াদেশ বাড়তে থাকায় নতুন আরেকটি ইউনিট চালু করেছি। সব মিলিয়ে এ দুটি কারখানায় এখন সাড়ে ৯ হাজার কর্মী রয়েছেন। অবস্থা এখন এমন হয়েছে, কোনো কর্মী চলে গেলে নতুন করে কাউকে নিয়োগ দেওয়ার অবস্থা নেই।

ম্যাফ সুজের কারখানায় চপ্পল, কেডস, স্নিকারসহ বিভিন্ন ধরনের চামড়াবিহীন জুতা তৈরি হয়। গত বছর এ কারখানা থেকে সাড়ে সাত কোটি ডলারের জুতা রপ্তানি হয়েছে। এ বছর এখন পর্যন্ত রপ্তানি বেড়ে সাড়ে আট কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। এখন নতুন করে রপ্তানিতে ধাক্কা আসায় কর্মীদের বেতন-ভাতা দেওয়ার ক্ষেত্রে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় আগে দিনে যেখানে ৫০ হাজার জোড়া জুতা উৎপাদিত হতো, সেখানে উৎপাদন কমে এখন নেমে এসেছে ৩০ হাজারে।

আগামী মার্চের আগে ক্রয়াদেশ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা কম। পুরোনো চালানের রপ্তানিও আটকে গেছে। এ সময় রপ্তানি আয় না হলেও আগামী চার মাস বেতন-ভাতা, বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে স্বল্পমেয়াদি ঋণ নিতে হচ্ছে ব্যাংক থেকে। আগামী কয়েক মাস টিকে থাকাই হবে প্রধান লক্ষ্য।