জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবন
ফাইল ছবি

রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে আয়কর খাত ভালো করতে পারছে না। জুলাই মাস থেকে নতুন আয়কর আইন চালু হলেও আয়কর আদায়ে বেশ পিছিয়ে এনবিআর। গত জুলাই মাসে ৭ হাজার ২৮১ কোটি টাকার আয়কর আদায়ের লক্ষ্য ছিল। মাস শেষে দেখা গেছে, আদায় হয়েছে ৫ হাজার ২১৩ কোটি টাকা। আয়কর আদায়ে ঘাটতি ২ হাজার ৬৭ কোটি টাকা। এনবিআরের তিন খাতের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্স আয়কর খাতের।

এনবিআরের আয়কর বিভাগের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, নতুন আইনের অনেক বিধিমালা জারি হয়নি। নতুন আইনে কর দিতে নতুন ফরমগুলো তৈরি করা হয়নি। এমন অবস্থায় করদাতাদের কর প্রদানে আগ্রহ কম।

সব মিলিয়ে গত জুলাই মাসে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি ১ হাজার ৮৬৫ কোটি টাকা। আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) খাতে ঘাটতি থাকলেও আমদানি পর্যায়ে শুল্ক-কর আদায় লক্ষ্যের চেয়ে বেশি হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) হালনাগাদ তথ্যে এই চিত্র পাওয়া গেছে।

জুলাই মাসে সবচেয়ে ভালো করেছে শুল্ক বিভাগ। এ মাসের লক্ষ্য ছিল ৭ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৭ হাজার ৬৯৩ কোটি টাকা। লক্ষ্যের চেয়ে ৫৩১ কোটি টাকা বেশি আদায় হয়েছে। আমদানি পর্যায়ে শুল্ক-কর আদায়ে প্রবৃদ্ধি ১৩ শতাংশের বেশি।

কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের আমদানি ঋণপত্র নিষ্পত্তির তথ্যের সঙ্গে আমদানি পর্যায়ে শুল্ক-কর আদায়ের চিত্রের গরমিল আছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে ঋণপত্র নিষ্পত্তি আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২০ শতাংশ কম।

ঋণপত্র নিষ্পত্তি কম হলেও শুল্ক-কর আদায় বাড়ল কীভাবে, এমন প্রশ্নে সংশ্লিষ্ট শুল্ক বিভাগের এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, জুলাই মাসে জ্বালানি তেল, ভোগ্যপণ্য, কাঁচামাল, সিমেন্টসহ বিভিন্ন পণ্যের খালাস বেশি হয়েছে। ঋণপত্র নিষ্পত্তির প্রভাব পড়ছে আগস্ট মাসে। গত মাসে ঋণপত্র নিষ্পত্তি হওয়া বেশ কিছু পণ্যের খালাস আগস্ট মাসে হয়েছে।

জুলাই মাসে ভ্যাট আদায় ঘাটতি হয়েছে ৩২৯ কোটি টাকা। এই সময়ে আদায় হয়েছে ৭ হাজার ৬৫৪ কোটি টাকা। লক্ষ্য ছিল ৭ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছরে এনবিআরের জন্য সব মিলিয়ে ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার শুল্ক-কর আদায়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।