চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি পণ্য নিয়ে আসা বড় জাহাজ সাগরে রেখে লাইটার জাহাজে পণ্য স্থানান্তর করা হয়। এরপর এসব লাইটার জাহাজে করে দেশের নানা ঘাটে নিয়ে পণ্য খালাস করা হয়। এভাবে নদীপথে প্রতিবছর ছয় কোটি টনের বেশি পণ্য পরিবহন হয়। এই পণ্যের মধ্যে রয়েছে সিমেন্ট, সিরামিকস ও ইস্পাতশিল্পের কাঁচামাল, সার, কয়লা ও ভোগ্যপণ্য। কর্মসূচির শুরু হলে চট্টগ্রাম থেকে সারা দেশে নদীপথে পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে যাবে।

পণ্য খালাসের অপেক্ষায় থাকা লাইটার জাহাজগুলো আগে রাখা হতো কর্ণফুলী নদীর উজানে। কর্ণফুলী নদীতে নৌযান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বন্দর কর্তৃপক্ষ এসব জাহাজ পতেঙ্গা সৈকতের সামনে বহির্নোঙরে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেয়।

এরপরই বছর দেড়েকের বেশি সময় ধরে এসব জাহাজ পতেঙ্গা সৈকতের পাশে সাগরে নোঙর করে রাখা হচ্ছে। জাহাজ থেকে শ্রমিকদের তীরে আসা–যাওয়ার জন্য গত বছর বন্দর কর্তৃপক্ষ চরপাড়া এলাকায় ঘাট নির্মাণ করে দেয়। পরিচালনার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ এই ঘাট ইজারা দেয়। ইজারা দেওয়ার পরই শ্রমিকদের সঙ্গে ইজারাদারের লোকজনের বাগ্‌বিতণ্ডা চলে আসছে।

হঠাৎ করে এই কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, সাধারণ শ্রমিকেরা এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। ৩ নভেম্বর ইজারাদারের লোকজন আট–নয়জন শ্রমিককে মারধর করেন। পুলিশ প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বন্দরের কাছে এ ঘাটের ইজারা বাতিলের দাবি জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর প্রতিবাদ হিসেবে চরপাড়া ঘাটের সামনে থেকে সব লাইটার জাহাজ পারকির চর এলাকায় নিয়ে যায় নৌযান শ্রমিকেরা। পারকির চর এলাকায় অবস্থানরত নৌযান থেকে শ্রমিকেরা বিমানবন্দর সড়কের শেষ মাথায় চায়নিজ ঘাট ব্যবহার করে ওঠা–নামা করতে শুরু করে। সেই ঘাটটিও বৃহস্পতিবার উচ্ছেদ করে দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। এরপরই ক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা বৃহস্পতিবার বিকেলে লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে গিয়ে লাইটার জাহাজে পণ্য ওঠানো-নামানো ও পরিবহন বন্ধের ডাক দেন।  

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বন্দরসচিব মো. ওমর ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, ঘাট দিয়ে শ্রমিকেরা যাতে নিরাপদে নৌযানে উঠতে পারেন এবং অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে কোনো নৌযান যাতে চলতে না পারে, সে জন্য দায়িত্ব দেওয়া দরকার। এই দায়িত্ব পালনের জন্যই দরপত্রের মাধ্যমে চরপাড়া ঘাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। মাশুলও জনপ্রতি ১০ টাকা রাখা হয়েছে, যেটি শ্রমিকেরা দিলেও মালিকপক্ষের কাছ থেকে আদায় করার কথা।

চায়নিজ ঘাট বন্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, এই ঘাটে বন্দরের অনুমোদন ছাড়াই যাত্রী পারাপার করা হচ্ছিল। আবার জলোচ্ছ্বাসের জন্য ঘাটের সামনে যে সংরক্ষণ দেয়াল দেওয়া হয়েছিল, তা কেটে ফেলা হয়েছে। সে জন্য এই অবৈধ ঘাটটি উচ্ছেদ করা হয়েছে।