রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া সিগারেটের ভোগ বেড়েছে, শুল্ক–কর ক্ষতি ৪৭০০ কোটি টাকা

দেশে অবৈধ সিগারেটের ব্যবসা বন্ধ ও রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করে গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিআরআই। আজ সোমবার সংস্থাটির বনানীর কার্যালয়ে কথা বলছেন পিআরআই চেয়ারম্যান জাইদি সাত্তারছবি: প্রথম আলো

দেশে সিগারেটের ওপর উচ্চ করারোপ এবং বেশি দাম নির্ধারণ করায় রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া সিগারেটের ভোগ বাড়ছে। এক বছরে এমন ৭০০ কোটি শলাকা সিগারেট ভোগ হয়েছে। এতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকার। তাই অবৈধ কারবার ঠেকাতে সিগারেটের দাম ও কর যৌক্তিকভাবে নির্ধারণের পরামর্শ দেওয়া হয়।

আজ সোমবার রাজধানীর বনানীতে গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নিজস্ব কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

দেশে সিগারেটের অবৈধ ব্যবসা বন্ধ এবং রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিআরআই চেয়ারম্যান জাইদি সাত্তার। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন পিআরআইয়ের গবেষণা পরিচালক বজলুল হক খন্দকার।

অনলাইনে ভার্চ্যুয়াল উপায়ে যুক্ত হয়ে বজলুল হক খন্দকার বলেন, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সিগারেটের ওপর করভার ছিল ৭৬ শতাংশ। পরের অর্থবছরে এটা বাড়িয়ে ৮৩ শতাংশ করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল ভোগ কমানো এবং রাজস্ব আয় বাড়ানো। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এতে অবৈধ উপায়ে দেশে আসা ও রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া সিগারেটের ভোগ বেড়েছে এবং রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।

চলমান একটি গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বজলুল হক খন্দকার বলেন, ২০২৪ সালে দেশে এমন সিগারেটের ভোগের পরিমাণ ছিল ৪০০ কোটি শলাকা। কিন্তু ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৭০০ কোটি শলাকায় উন্নীত হয়। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৫৬ শতাংশ ভোগ বেড়েছে। এতে সরকার প্রায় ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে, যা মোট রাজস্বের প্রায় ১ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

পিআরআইয়ের গবেষণার তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে দেশে বৈধ ও রাজস্ব দেওয়া সিগারেটের ভোগের পরিমাণ ছিল ৭৪ দশমিক ৬০ বিলিয়ন শলাকা, যা ২০২৫ সালে কমে দাঁড়ায় ৬১ বিলিয়ন শলাকায়। অর্থাৎ মোট ভোগের মধ্যে এমন সিগারেটের অংশ ছিল ৭৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ। তাই অবৈধ সিগারেট কারবার রোধে কঠোর পদক্ষেপ এবং শাস্তি বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পিআরআই চেয়ারম্যান জাইদি সাত্তার বলেন, উচ্চ দামের কারণে অবৈধ কারবার বাড়ে। তাই যৌক্তিকভাবে দাম নির্ধারণ করা গেলে এটা ঠেকানো যাবে। দাম কম হলে ভোগ বেড়ে সরকারের রাজস্ব আদায়ও বাড়বে। তাই এ খাতের করকাঠামো যৌক্তিক করার দাবি জানান তিনি। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সিগারেট কোম্পানির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।