মজার বিষয় হলো, যাঁর জন্য এত গন্ডগোল, সেই ইলন মাস্কও ব্যবহারকারীদের নিজের মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে যাওয়া নিয়ে মজা করতে পিছপা হননি। নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে টুইটারে ছবি পোস্ট করেছেন তিনি, সেখানে দেখা যাচ্ছে, একটি কবরের নামফলকে টুইটারের লোগো।

ইতিমধ্যে টুইটারের অর্ধেক কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। যাঁদের ছাঁটাই করা হয়নি, তাঁরাও আত্মসম্মান বজায় রাখতে টুইটার ছাড়ছেন। টুইটারের তথ্যানুসারে, সফটওয়্যার প্রকৌশলী, ডেভেলপার, কোডার—এই শ্রেণির মানুষেরা দলে দলে চাকরি ছাড়ছেন। কিন্তু এত মানুষের বদলি কর্মী তো আর রাতারাতি পাওয়া যাবে না। বিশ্লেষকেরা আশা করছেন, এতে টুইটারের ওয়েবসাইট হ্যাকিংয়ের শিকার হতে পারে।

ফিরলেন ট্রাম্প

সাধারণ ব্যবহারকারীরা যখন টুইটার ছাড়ছেন, তখন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টুইটার অ্যাকাউন্ট ফেরত পেয়েছেন। শনিবারই তা জানিয়ে দিয়েছিলেন টুইটারের নতুন মালিক ইলন মাস্ক। তাঁর ঘোষণামতোই ফিরল সাবেক প্রেসিডেন্টের অ্যাকাউন্ট।

ট্রাম্পকে টুইটারে ফেরানো উচিত কি না, তা নিয়ে ভোটাভুটির আয়োজন করেছিলেন মাস্ক। সেই ভোটের ফলাফল অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

টুইটে মাস্ক লিখেছেন, ‘মানুষ তাঁদের মতামত জানিয়েছেন। ট্রাম্প আবার টুইটারে ফিরবেন।’ সেই সঙ্গে লাতিন ভাষায় একটি বাক্যও লিখেছেন মাস্ক। যার অর্থ, ‘মানুষের স্বরই ঈশ্বরের স্বর (ভক্স পপুলি ভক্স দেই)।’ তারপর সক্রিয় হয়ে গেছে ট্রাম্পের পুরোনো অ্যাকাউন্ট।

এদিকে টুইটার কেনার পর ইলন মাস্ক প্রথমেই ঘৃণা ভাষ্যের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। কিন্তু এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মালিকানা বদলের পরপরই এক ধাক্কায় টুইটারে বিদ্বেষমূলক আক্রমণ অনেকটা বেড়ে গেছে। সম্প্রতি নিজেদের প্রতিবেদনে এমন দাবি করেছে ‘সেন্টার ফর কাউন্টারিং ডিজিটাল হেট’ নামের একটি সংস্থা।

ওই ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ সংস্থার গবেষকেরা বলেছেন, চলতি বছরের পুরো সময় টুইটারে কৃষ্ণাঙ্গ মানুষদের বিরুদ্ধে যত ঘৃণা ভাষণ ছড়ানো হয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহে তা ২৬ হাজার গুণ বেড়েছে। শুধু কৃষ্ণাঙ্গরাই নন, টুইটারের বিভিন্ন পোস্টের মাধ্যমে বিদ্বেষমূলক আচরণের শিকার হচ্ছেন রূপান্তরকামী ও সমকামী পুরুষেরা। ছাড় পাচ্ছেন না ইহুদিরাও।

সংস্থাটি জানিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহে সারা বিশ্বে ইংরেজি ভাষায় প্রচারিত মোট ৮০ হাজার টুইট ও সেগুলোর রিটুইট নিয়ে গবেষণা করেছে তারা। তারা দেখেছে, ইংরেজিতে লেখা টুইটগুলোয় বিদ্বেষমূলক আক্রমণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।

ঠিক এই পরিস্থিতিতে টুইটার অ্যাকাউন্ট ফিরে পেলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর যে ইতিহাস, তাতে আশঙ্কা করাই যায়, ভবিষ্যতে টুইটার ঘৃণা ভাষ্যের প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠতে পারে।