গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় বিএফআইইউর অতিরিক্ত পরিচালক মো. কামাল হোসেন বার্ষিক প্রতিবেদনের বিস্তারিত তুলে ধরেন। উপস্থিত ছিলেন বিএফআইইউর উপপ্রধান নজরুল ইসলাম, পরিচালক রফিকুল ইসলাম, আরিফ হোসেনসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।

ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালেই বাংলাদেশ থেকে ৪ হাজার ৯৬৫ কোটি ডলার পাচার হয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ সোয়া ৪ লাখ কোটি টাকা। তবে বিএফআইইউ গতকাল বলেছে, জিএফআইয়ের তথ্য পুরোটা বিশ্বাসযোগ্য নয়।

বিএফআইইউর কাজের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে মাসুদ বিশ্বাস বলেন, ‘আমার কাজের স্বাধীনতা শতভাগ। তবে জনবলের স্বল্পতা আছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও ৫০-৬০ শতাংশ জনবল নিয়ে চলছে। আমাদের অনুসন্ধানে যা বের হয়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে পাঠানো হয়। এ জন্য আমাদের কাজের সফলতার জন্য তাদের ওপর নির্ভর করতে হয়। তারা একেবারে তৃণমূল পর্যন্ত যায়। তাদের আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা আছে।’

বিএফআইইউ বিভিন্ন প্রতিবেদন তৈরি করে আইনি ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগসহ (সিআইডি) বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে পাঠায়।

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ জমা প্রসঙ্গে বিএফআইইউর অতিরিক্ত পরিচালক মো. কামাল হোসেন বলেন, সুইজারল্যান্ডের ২৫০টি ব্যাংক বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফলে সব দেশে জমা হওয়া অর্থই সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদনে আসছে।

বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসীরা এসব ব্যাংকে অর্থ রাখছেন। আর সুইস ব্যাংকে যে অর্থ জমার কথা বলা হচ্ছে, তার মাত্র ৩ শতাংশ ব্যক্তির। যার পরিমাণ ২৪২ কোটি টাকা। বাকি টাকা অন্য ব্যাংকের দায়, অসমন্বিত থাকা হিসাব। গণমাধ্যমে শুধু সুইস ব্যাংকের জমা হওয়া অর্থের তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে, সেই ব্যাংকে আমাদের যে দায় আছে, তা প্রকাশ হচ্ছে না।

সুইজারল্যান্ড আইন পরিবর্তন করেছে, আগামী বছর থেকে কারা অর্থ রেখেছে, তার তথ্য পাওয়া যাবে। এ জন্য ব্যক্তির নাম, অভিযোগের বিষয়বস্তু এবং ওই দেশের ব্যাংকের নাম পাঠাতে হবে।

সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশের নাগরিকদের জমা করা টাকার পরিমাণ এক বছরের ব্যবধানে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা বেড়েছে।

২০২১ সালে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশিদের গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁ, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। ২০২০ সালে এই অর্থের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা।

ডলার–সংকটের অন্যতম কারণ অর্থ পাচার, এমন প্রশ্নের জবাবে মো. মাসুদ বিশ্বাস বলেন, আমদানি কমে আসছে। সামনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।